kalerkantho


সাক্কুর সম্পদ পাঁচ বছরে বেড়েছে কয়েক গুণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাক্কুর সম্পদ পাঁচ বছরে বেড়েছে কয়েক গুণ!

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু গত মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছরে নগদ টাকা কমলেও জমির পরিমাণ বেড়েছে। গত নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামায় তাঁর নগদ অর্থ ছিল এক কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। এবারের হলফনামায় নগদ অর্থ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৬ টাকা। আর পাঁচ বছর আগে তাঁর স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলির নগদ টাকা ছিল দুই লাখ ৯৯ হাজার ৭৯৮ টাকা। পাঁচ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫২৩ টাকা।

স্থাবর সম্পদ তালিকায় গত নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী যৌথ মালিকানাধীন ছয় একর কৃষিজমি (নিজ অংশ ১৭ ভাগের ২ ভাগ), তিন কাঠার একটি ও পাঁচ কাঠার তিনটি প্লট, দশমিক ০১৬ একর, দশমিক ৪১৯৯ একর ও দশমিক ০৯২৩ একর অকৃষিজমি ছিল সাক্কুর। এবারের হলফনামায় বসুন্ধরায় তিন কাঠা, মধুমতিতে পাঁচ কাঠা, স্বদেশে পাঁচ কাঠা করে দুটি প্লট এবং দশমিক ০১৬ একর, দশমিক ৪১৯৯ একর ও দশমিক ০৯২৩ একর অকৃষি জমি রয়েছে। এ ছাড়া চার হাজার ৬৯০ বর্গফুটের দোকান ও ফ্ল্যাট রয়েছে।

গত নির্বাচনের সময় হলফনামায় সাক্কুর স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলির তিনটি বাণিজ্যিক দোকান, এক হাজার ৮২৬ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, নিজ নামে যৌথ মালিকানায় দশমিক ০৪ একর দালান, দশমিক ১৬৫০ একর জমি, যৌথ মালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্ট (নিজ অংশ ১৭ ভাগের ২ ভাগ) ও নিজ নামে সাত লাখ টাকা মূল্যের দোকানঘর পজেশনের কথা বলা হলেও এবারের নির্বাচনের হলফনামায় কুমিল্লা শহরের সেল নিশা টাওয়ারের দোতলায় ১২টি দোকান, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সাত হাজার ২৫৬ বর্গফুটের রেডরোফ ইন হোটেল, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় দুটি ফ্ল্যাট, ফাতেমা জাহানারা টাওয়ারে তিন হাজার ২২৯ বর্গফুটের স্পেস রয়েছে বলে জানা গেছে।

সঞ্চয়পত্র বাবদ সাক্কুর রয়েছে দুই লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রীর এই খাতে আছে ২৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

গাড়ি আছে দুটি। দুজনের স্বর্ণ আছে ১০ তোলা করে।

সাক্কুর স্ত্রী ব্যবসায় পুঁজি খাটিয়েছেন দুই কোটি ১২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে সাক্কুর অকৃষি জমি আছে দশমিক ০৯২৩ একর।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী প্রধান দুই দলের মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে সাক্কু সম্পদে এগিয়ে থাকলেও আনজুম সুলতানা সীমার তুলনায় শিক্ষায় পিছিয়ে আছেন। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত সীমার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ-বিএড।

অপরদিকে পেশায় ব্যবসায়ী সাক্কুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। সাক্কুর সম্পদের চেয়ে তাঁর স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলির সম্পদের পরিমাণ বেশি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সীমার বাড়ি ও দোকানভাড়া থেকে মাসিক আয় ৫৪ হাজার টাকা। তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে আয় করেন আড়াই লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আসে দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৪৬ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র বাবদ ২০ লাখ টাকা ও স্বর্ণ ৩০ তোলা। এ ছাড়া তাঁর স্বামী নিসার উদ্দিন আহমেদের রয়েছে ৩০ তোলা স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি ১০ শতক ও টিনশেড বিল্ডিং। তাঁর স্বামীর অকৃষিজমি আছে ২০ শতক, দুই হাজার বর্গফুটের দ্বিতলবিশিষ্ট আবাসিক দালান ও এক হাজার ২০০ বর্গফুট তিনতলা আবাসিক দালান।

মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে পিডিপির সোয়েবুর রহমানের পেশা থেকে আয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে নগদ এক লাখ টাকা ও ব্যাংকে জমা দুই লাখ টাকা। জেএসডির শিরিন আক্তারের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণ ৩০ ভরি ও ঋণপত্র ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ আছে ১৪ শতক জমি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর (অব.) মামুনুর রশীদের বাড়িভাড়া থেকে আয় তিন লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর শিক্ষকতা পেশা থেকে আয় ৬০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে দেড় লাখ টাকা।

মামুনুর রশীদের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নগদ এক লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে দুই লাখ টাকা ও স্ত্রীর স্বর্ণ ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি ১১ শতক, অকৃষিজমি ৬০ শতক ও স্ত্রীর একটি বাড়ি।

শিরিন আক্তার এসএসসি পাস ও পেশায় মৌসুমি ব্যবসায়ী। সোয়েবুর রহমান পেশায় আইনজীবী। মামুনুর রশীদ এমবিএ পাস। পেশা ওষুধের ব্যবসা। প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।  

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩০ মার্চ।


মন্তব্য