kalerkantho


হত্যা মামলায় হোসনি মুবারক বেকসুর খালাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হত্যা মামলায় হোসনি মুবারক বেকসুর খালাস

মিসরের সর্বোচ্চ আপিল আদালত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারককে কয়েক শ বিক্ষোভকারী হত্যার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। ২০১১ সালে মুবারকবিরোধী আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ওই বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়।

কায়রোভিত্তিক আপিল আদালত বৃহস্পতিবার জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে ৮৮ বছর বয়সী মুবারকের কারাগার থেকে মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সরকারের সদিচ্ছার ওপর।

মিসরে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে মুবারকের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ১৮ দিন পর ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত হন মুবারক। বিপ্লবের দিনগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৮০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় মুবারকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মুবারকের নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৩৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান নিম্ন আদালত। ২০১২ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মুবারক ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুইবার উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আপিল আদালতের বিচারক আবদেল কাউয়ি বলেন, ‘আদালত দেখতে পেয়েছেন, আসামি নির্দোষ। ’ এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী মুবারকের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করার অনুমতি চাইলে বিচারক জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করা বা এই মামলা পুনর্বিচারের সুযোগ নেই। কাজেই ৮৮ বছর বয়সী মুবারক এবার কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে আদালতের এই রায়ে ২০১১ সালের গণবিক্ষোভে নিহতদের স্বজনরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা ওই গণহত্যার জন্য মুবারকের পাশাপাশি বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিরও বিচার দাবি করেছে। সিসি ওই সময় সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন। জেনারেল সিসিকে পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ দেন। ২০১৩ সালের আগস্টে এই সিসির হাতেই ক্ষমতাচ্যুত হন মুরসি।

সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগে এরই মধ্যে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন মুবারক। বর্তমানে তিনি একটি সামরিক হাসপাতালে আটক অবস্থায় ‘চিকিৎসা’ নিচ্ছেন। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিপ্লবপরবর্তী দিনগুলোতে আরো বহু অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেসব অভিযোগের প্রায় সব কটিতে তিনি নিজের শাসনামলে স্থাপিত বিচার বিভাগের কাছ থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। সূত্র : বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আল-জাজিরা।


মন্তব্য