kalerkantho


জাহাজের ৬৬ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করল মহেশখালী

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জাহাজের ৬৬ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করল মহেশখালী

আন্তর্জাতিক পর্যটকবাহী জাহাজে করে আসা ৬৬ বিদেশি পর্যটক উপভোগ করল মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিলাসবহুল ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজে করে পর্যটকরা কলকাতা থেকে রওনা দেয়।

এরপর দুই দিন সুন্দরবন ভ্রমণ করে গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের মহেশখালী গভীর সাগরে পৌঁছে। সেখান থেকে স্পিডবোটে করে মহেশখালীতে নেমে বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৯১ বিদেশি পর্যটক নিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশ ভ্রমণে আসে ‘সিলভার ডিসকভারার’ নামক বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে রওনা দিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপ, হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবনের হারবারিয়া ভ্রমণ করে কলকাতায় গিয়ে যাত্রা শেষ করে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী সমুদ্র রুটে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে মহেশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিভীষণ কান্তি দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ৬৬ বিদেশি পর্যটক জাহাজ থেকে স্পিডবোটে করে আদিনাথ ঘাটে এসে নামে। দুইভাগে ভাগ হয়ে পর্যটকরা আদিনাথ মন্দির, রাখাইন পল্লী, রাখাইন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখে।

পর্যটকদের জন্য স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা রাখাইনদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে নাচ-গান পরিবেশন করে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান শেষে পর্যটকরা জাহাজে ফিরে যায়।

মহেশখালীর পাহাড়-সাগর ঘেরা পর্যটন সৌন্দর্য দেখে তারা মুগ্ধ হয়।

পর্যটকরা মহেশখালীকে কেন বেছে নিল জানতে চাইলে জাহাজটির দেশীয় ট্রাভেল এজেন্ট জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের ইনানি, রামু, সোনাদিয়া, সেন্ট মার্টিনস, টেকনাফসহ অনেক পর্যটনস্থান ভ্রমণে প্রস্তাব দেওয়ার পর তারা নির্জন হিসেবে মহেশখালীকে বেছে নেয়। তিনি আরো বলেন, এতে তারা খুশি হয়ে প্রথম জাহাজের নাবিক সাউথ আফ্রিকার নাগরিক কনট্রাড বাংলাদেশের পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে চিঠি লিখে বাংলাদেশ দেখে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশ ভ্রমণের আগ্রহ দেখিয়েছেন।

জানা যায়, ৬৬ বিদেশি পর্যটক নিয়ে ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজটি কলকাতা থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি রওনা দিয়ে ১ মার্চ মোংলা বন্দরে পৌঁছে, সেখান থেকে ১ মার্চ ছেরাপুটিয়া, হারবারিয়া এবং ২ মার্চ কোকিলমারি ভ্রমণ শেষে ৩ মার্চ মহেশখালীতে পৌঁছে। এখান থেকে রওনা দিয়ে ৬ মার্চ ইয়াংগুন, ১২ মার্চ পর্যন্ত মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করে ১৩ মার্চ থাইল্যান্ডের ফুকেটে গন্তব্য শেষ করবে। এ জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলকাতা-ইয়াংগুন-ফুকেট রুটে যুক্ত হলো। দ্বিতীয় জাহাজে যাত্রীদের বেশির ভাগ যুক্তরাষ্ট্রের, এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের পর্যটক। ১৪ দিনের

এই ভ্রমণে যাত্রীদের ব্যয় করতে হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় আট লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

প্রথম জাহাজে ৯১ পর্যটকের কাছ থেকে প্রতিজনের ভিসা ফি বাবদ ৫১ ডলার হিসাবে বাংলাদেশ মোট রাজস্ব পেয়েছিল পৌনে চার লাখ টাকা। এবার ৬৬ জনের কাছ থেকে দুই লাখ ৬৯ হাজার টাকা রাজস্ব পায় বাংলাদেশ। এবার মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ‘অন এরাইভাল ভিসা’ নিয়ে বিদেশি পর্যটকরা সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আর মহেশখালী ভ্রমণ শেষে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনপ্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশ ত্যাগ করবে।

জানা গেছে, সমুদ্রপথে বিলাসবহুল ‘সিলভার সি’ গ্রুপ ৪৭টি জাহাজ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটক পরিবহন করছে। ১২০ যাত্রী ধারণক্ষমতার ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজে ৯৬ জন ক্রু রয়েছেন। জাহাজে সব যাত্রীর আন্তর্জাতিক মানের বিলাসবহুল স্যুট ও কেবিনে থাকা, জাহাজের রেস্টুরেন্টে খাওয়া, একই সঙ্গে সুইমিং পুল, বারবিকিউসহ সব সুবিধা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভারতের বিভিন্ন যাত্রীবাহী সমুদ্রপথে যুক্ত হতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে পর্যটনবর্ষ উপলক্ষে জোর চেষ্টা চালিয়ে আন্তর্জাতিক দুটি পথে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে সমর্থ হয় সরকার।


মন্তব্য