kalerkantho


কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী নিহত

ছয় পুলিশ সদস্য আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী নিহত

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের দুর্গম পাহাড়ে ‘কুদাইল্যা বাহিনী’ নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানায় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাজাপ্রাপ্ত এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, মহেশখালী দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী পাহাড়ে গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়।

এতে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগর খুইল্যা মিয়া (৫০) নিহত হয়। অস্ত্র মামলায় ৩০ বছরের সাজা নিয়ে সে পলাতক ছিল। অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারিগর হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় তার নাম ছিল।

অভিযানের পর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন মহেশখালী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুলিশ সন্ত্রাসী বাহিনীর আস্তানা থেকে ১৩টি অস্ত্র ও ৩২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির জামার পকেটে পাওয়া গেছে ২০০ পিস ইয়াবা বড়ি। সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন।

পুলিশ সুপার আরো জানান, মহেশখালী দ্বীপে গত ১০ দিনের অভিযানে ১৫ জন সন্ত্রাসী আটক হয়েছে। এ ছাড়া ৫০টির বেশি বন্দুক, ৩০০ রাউন্ড গুলি, বিপুলসংখ্যক ইয়াবা বড়ি এবং প্রায় ৩০ হাজার লিটার বাংলা মদ আটক করেছে পুলিশ।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, কুদাইল্যা বাহিনীর আস্তানায় একদল সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগর মিলে বিপলুসংখ্যক অস্ত্র মেরামত ও পরীক্ষা করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গতকাল সকাল ১০টায় আস্তানাটি ঘিরে ফেলে।

একপর্যায়ে পুলিশ পাহাড়ের চারদিক থেকে যৌথভাবে অভিযান চালালে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগররা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি পথ দিয়ে চলে গেলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুইল্যা মিয়াকে পাওয়া যায়। অস্ত্র মামলার ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খুইল্যা মিয়া বড় মহেশখালীর মাঝের পাড়া এলাকার আজম উল্লাহর ছেলে। মহেশখালী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই হারুনর রশিদ, এএসআই সঞ্জীব দত্ত, এএসআই মেহেদী হাসান, এএসআই সহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, কনস্টেবল মিঠুন ভৌমিক ও সবিনয় চাকমা। তাঁদের মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল জানান, খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় অস্ত্র, হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে।


মন্তব্য