kalerkantho


প্রশ্নপত্র ফাঁস

সংঘবদ্ধ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার ৩ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সংঘবদ্ধ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার ৩ দিনের রিমান্ড

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ডিবি পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার সন্দেহে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত দুই দিন রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম এবং চক্রের সদস্য রমন হোসেন ওরফে মাহির, মো. লিটন মিয়া, আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, রাজীব আলী, তারিকুজ্জামান হিমেল ওরফে আবীর, জহিরুল ইসলাম ওরফে শুভ ও অন্তর। এ আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান আসামিদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত বুধবার তাদের আসামি করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন ডিবির উপপরিদর্শক নাজমুল হক।

আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্র।

চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ফেসবুকে ছড়িয়ে বিজ্ঞাপন দেয়। তারা বিভিন্ন চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র আদান-প্রদান ও বেচাকেনা করে আসছিল। আসামিরা ফেসবুকের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নের সন্ধান পেতেন।

রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, জ্ঞানকোষ একাডেমি কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আসামি রফিকুল ইসলাম এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্রে অসাধু শিক্ষকদের সহায়তায় পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্রের ছবি আসামি জহিরুল ইসলামের কাছে পাঠাতেন। জহিরুল ইসলাম ওই প্রশ্নের উত্তর সহকারে ফেসবুকে পোস্ট করতেন। আসামি তারিকুজ্জামান, আরিফুল ইসলাম, রুমন হোসেন ফেসবুকের এসব চ্যাট গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তাঁরা ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে থাকেন।

আবেদনে আরো বলা হয়, আসামি লিটন আলী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তারিকুজ্জামানকে পাঠিয়েছিলেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকের মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে বিকাশ ও রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। এ ভুয়া প্রশ্নপত্র চক্রের মূল হোতা ও অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কয়েকটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে গণিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে গণিত পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগেও বিভিন্ন সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আসামি করে কলাবাগান থানার একটি মামলায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তাঁরা হলেন রাজু আহমেদ, ফয়সালুর রহমান ওরফে আকাশ, জোহায়ের আয়াজ, মহিউদ্দিন ইমন, স্বাধীন আল মাহমুদ ও কাজী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রনি।


মন্তব্য