kalerkantho


আদিমতম প্রাণের প্রমাণ মিলল!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আদিমতম প্রাণের প্রমাণ মিলল!

মতান্তরে পৃথিবীর বয়স ৪.৫০ বিলিয়ন বছর। অর্থাৎ পৃথিবী ৪৫০ কোটি বছরের পুরনো। পৃথিবী সৃষ্টির পর অনেক ঝঞ্ঝা উত্থানসহ নানা অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে জীবন সৃষ্টির সহায়ক উষ্ণসুপের সৃষ্টি হয়। আর ওই উষ্ণসুপের ভেতর প্রথম অণুজীবের সন্ধান পাওয়া যায়। এখন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, সবচেয়ে আদিমতম অণুজীবের জীবাশ্মের হদিস পেয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞানীদের দাবি, উত্তর-পূর্ব কানাডার নুভভুয়াগিত্তিক এলাকায় পাথরের খাঁজে আদিমতম অণুজীবের জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, এই জীবাশ্ম ৪.২৮ বিলিয়ন বছরের পুরনো। অর্থাৎ ৪২৮ কোটি বছরের পুরনো। আর যদি তাই হয়, তাহলে পৃথিবী সৃষ্টির ২২ কোটি বছর পর ওই অণুজীবের জীবাশ্মের সন্ধান মিলল। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই জীবাশ্ম চুলের চেয়েও পাতলা, যা কোনো দিন খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।

 

বিবিসি জানিয়েছে, এসংক্রান্ত খবর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এর সামপ্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটাই এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া পৃথিবীর আদিমতম অণুজীবের জীবাশ্ম। এর আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় আদিমতম অণুজীবের জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

তবে এই অণুজীবের জীবাশ্ম পাওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলছেন, যে হিসাবে এই জীবাশ্মকে ‘আদিমতম’ অণুজীবের জীবাশ্ম বলা হয়েছে, তা পুরোপুরি নির্ভুল নাও হতে পারে। কানাডায় যে আদিমতম শিলাস্তরের খাঁজে ওই অণুজীবের জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়া গেছে তা মাটির বসে যাওয়া বা তীব্র বায়ুপ্রবাহে নষ্ট হয়ে যাওয়া শিলাস্তর। সেখানে কিভাবে অটুট থাকল অণুজীবের জীবাশ্ম, তা নিয়ে বিস্তর ভাবার আছে। আর কিভাবেই বা ওই শিলাস্তরের খাঁজে অবিকৃতই রয়ে গেল সন্ধান পাওয়া আদিমতম অণুজীবের জীবাশ্ম।

এ রকম প্রশ্ন তোলা বিজ্ঞানীরা আরো বলছেন, নিয়মিতভাবে ভূস্তরের পরিবর্তন হয়ে চলেছে। ওপরের ভূস্তর নিচে চলে যাচ্ছে বা নিচের ভূস্তর ওপরে চলে আসছে। এটা হচ্ছে বলেই প্রাণের বিবর্তন বা বিকাশ সম্ভব হয়েছে পৃথিবীতে। এ ছাড়া এটা সত্যি সত্যিই কোনো অণুজীবের জীবাশ্ম কি না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।  

তবে মূল গবেষক ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বায়োজিওকেমিস্ট ডড ম্যাথু বলেছেন, “ওই জীবাশ্ম  দেখে আমাদের বিশ্বাস আরো জোরালো হয়েছে, পৃথিবীতে প্রাণের জন্ম হয়েছিল খুব সরল, সাদাসিধেভাবেই। আর তার জন্য খুব একটা সময়ও লাগেনি। পৃথিবীর জন্মের অল্প কিছু পরেই অণুজীবের জন্ম হয়েছিল। যে জায়গায় ওই জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে, সেই এলাকা লোহা আর লোহার নানা রকমের অক্সাইড যৌগে ভরা। গোটা হাডসন উপসাগরের পূর্ব উপকূলটাই লোহা আর লোহার নানা ধরনের অক্সাইড যৌগে ছিল ভরা। খুব সুদূর অতীতে এই জায়গা ছিল সমুদ্রের তলায়। পরে কোনো ছিদ্রপথে নিচের অত্যন্ত গরম জলের স্রোত ওপরে উঠে আসে। আর সেই ‘পথে’ই হয়তো ওপরে উঠে এসে শিলাস্তরের খাঁজে আটকে গিয়েছিল ওই আদিমতম অণুজীবের জীবাশ্ম। ”

অধ্যাপক ডড ম্যাথু বলেছেন, ‘এর থেকে মনে হচ্ছে, খুব সুদূর অতীতে হয়তো প্রাণ ছিল মঙ্গলেও। কারণ একইভাবে আর কাছাকাছি সময়েই পৃথিবী ও মঙ্গলের জন্ম হয়েছিল। ’ সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য