kalerkantho


এমপি লিটন হত্যা

কাদের খানের সেই তথ্যদাতা সুবল গ্রেপ্তার

আরো কয়েকজন চিহ্নিত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কাদের খানের সেই তথ্যদাতা সুবল গ্রেপ্তার

এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ক্ষমতাসীন দলের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার সঙ্গে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খান ও তাঁর বাহিনী ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন জড়িত আছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এদের অন্যতম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায়ের ভগ্নিপতি সুবল চন্দ্রকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজনীতির মাঠ দখল, স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হওয়া ও প্রকল্পে ভাগ না বসাতে পারা, এমপি লিটনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাসহ নানা কারণে ওই সিন্ডিকেট হত্যাকাণ্ডে কাদের খানকে সহায়তা করে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি তিনজন অংশ নিলেও দীর্ঘদিন ধরে লিটনবিরোধী ওই সিন্ডিকেট সুযোগ খুঁজছিল।

পুলিশের কাছে খুনি বাহিনী ও কাদের খানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এদেরই অন্যতম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায় ও তাঁর ভগ্নিপতি সুবল চন্দ্র। বাকিদের চিহ্নিত করতে পারলেও এখনই পুলিশ তাদের নাম জানাতে রাজি হয়নি; তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ গতকাল স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানান, এমপি লিটন খুনের ব্যাপারে নানা ব্যক্তি নানা কারণে জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত অনুযায়ী তাদের ব্যাপারেও দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

পুলিশ সুপার গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, এমপি লিটন সম্পর্কে কাদের খানের অন্যতম তথ্যদাতা ও সহযোগী সুবল চন্দ্রকে রংপুরের সেবা ক্লিনিকে চিকিৎসা শেষে রিলিজ হওয়ার পর গতকাল গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধায় এনে সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।  

পুলিশ সূত্র জানায়, এমপি লিটন হত্যায় পুরোভাগে থাকা অন্যতম খুনি মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই সুবল চন্দ্রও কাদের খানের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন এবং লিটনের গতিবিধি সম্পর্কে তাঁদের তথ্য প্রদান করতেন।

কাদের খানের অন্যতম তথ্যদাতা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার রায়ের ভগ্নিপতি সুবল মূলত চন্দনের রিক্রুট হলেও পরবর্তী সময়ে কাদের খানের অন্যতম আস্থাভাজনে পরিণত হন। খুনের দিন তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন কি না সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জেলার এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সুবলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুবল পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি রংপুরের ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্নভাবে তদন্ত করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুরের সেবা ক্লিনিকে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে নজরবন্দি করে রাখে।

এদিকে কাদের খানের পিএ সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গার শামসুজ্জোহাও এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যেকোনো মুহূর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লিটন হত্যার সঙ্গে আরো কারা সম্পৃক্ত, সেই তথ্যও জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরগঞ্জের এক সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান, কাদের খানের পিএ হিসেবে তাঁর বিভিন্ন প্রকল্প, বৈধ-অবৈধ অর্থের লেনদেন করতেন এই শামসুজ্জোহা। তিনি এর ফলে হঠাৎ করেই অর্থবিত্তের মালিক বনে যান। এমপি কাদের খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ এলে চন্দন রায় নলডাঙ্গায় তাঁর রড-সিমেন্টের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসেই বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে নিতেন। তাঁর ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই কাদের খানের ক্যাডারদের বৈঠক হতো বলে ওই জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন। কাদের খান তাঁর সঙ্গে আলাপ না করে কোনো কাজ করতেন না।

 


মন্তব্য