kalerkantho


সুজনের গোলটেবিলে বক্তারা

জন-আস্থা অর্জনই নতুন ইসির বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জন-আস্থা অর্জনই নতুন ইসির বড় চ্যালেঞ্জ

জনগণের আস্থা অর্জন করাই হচ্ছে নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কমিশনের কথাবার্তায়, কাজেকর্মে জনমনে এই আস্থা তৈরি হতে হবে যে তারা দলবাজি করবে না।

এখন সাধারণ মানুষ সংশয়ে আছে, তারা ভোট দিতে পারবে না। নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের এই ধারণা পাল্টানো। মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, আস্থা অর্জন করা।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা নতুন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার পরামর্শ দেন। নির্বাচন কমিশনের নাম ‘নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ’ লেখারও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলতে শুধু পাঁচজনকে বোঝায় না। বর্তমান কমিশনে সর্বমোট চার হাজার কর্মকর্তা আছেন। কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা নির্বাচনী ক্যাডার থাকা দরকার।

শামসুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়া দরকার এবং যাঁদের ওপর ইভিএম মেশিনের দায়িত্ব দেওয়া হবে তাঁদের ওপর সব পক্ষের আস্থা থাকতে হবে। ’

সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আরো অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজনের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, আলী ইমাম মজুমদার, বিচারপতি মো. আব্দুল মতিন, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হুমায়ূন কবীর হিরু, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘নবগঠিত নুরুল হুদা কমিশন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সামনে। সফল হতে হলে তাদের এগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জের প্রধান উৎস হলো বিদায়ী রকিবউদ্দীন কমিশনের ব্যর্থতা। সরকারও অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পাঁচ সদস্যের মধ্যে সম্ভাব্য মতানৈক্য। আশা করি বৃহত্তর স্বার্থে কমিশন এ চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে। ’

ড. মজুমদার নতুন ইসির কাছে ‘না-ভোটে’র বিধান পুনঃপ্রবর্তন, মনোনয়নপত্র অনলাইনে জমার সুযোগ, সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা ও আয়কর বিবরণী দাখিলের বিধান, সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে প্রদান, রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক সদস্যদের নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও নিয়মিত আপডেট করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।

এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘স্বচ্ছতার জন্যই আমরা চেয়েছিলাম অনুসন্ধান কমিটি তাদের সুপারিশ করা সব নাম প্রকাশ করবে, যাতে জনগণ সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু তা করা হয়নি। ’ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে হলে ইসিকে দক্ষ ও সাহসী হতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বর্তমান কমিশনের প্রধান কাজ হবে জনগণের আস্থা ফেরানো। এ ছাড়া স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে আইন সংস্কার, নির্বাচনী বিরোধ মীমাংসায় ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন, বড় শহরগুলোতে সংসদীয় আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া দরকার। ’

বিচারপতি আব্দুল মতিন বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং আদালতের রায় অনুযায়ী এ জন্য তাদের সব ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। তবে সরকারকে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। এ ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নাগরিকসমাজ ও গণমাধ্যমকে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। ’ শামসুল হুদা কমিশন যেসব সুপারিশ রেখে গেছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘নির্বাচন শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের বিষয় নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন ব্যর্থ হলে জাতির বড় ক্ষতি হয়ে যায়। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ’

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘সব দলের মতামতের ভিত্তিতে ইভিএমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। আমরা নতুন প্রযুক্তি কেন নেব না সে বিষয়ে ভাবতে হবে। ’ নবগঠিত নির্বাচন কমিশন সততা ও যোগ্যতা দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে ইসির সদিচ্ছা ও কমিশনারদের যোগ্যতা থাকা দরকার। কিন্তু বর্তমান সিইসির বড় কোনো দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নেই বলেই আমরা জানি। ’


মন্তব্য