kalerkantho


বকেয়া ৩০ কোটি টাকা শোধ করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বকেয়া ৩০ কোটি টাকা শোধ করার নির্দেশ

পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫৪টি ট্যানারির মালিককে করা জরিমানা বাবদ বকেয়া ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালত শিল্পসচিবকে বলেছিলেন এ ক্ষতিপূরণ যেন আদায় হয় তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত জরিমানার টাকা জমা দিতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।

শিল্পসচিব গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতকে জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত বকেয়া জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে এইচআরপিবির করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে তলব করলে শিল্পসচিব গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে বকেয়া জরিমানা সম্পর্কে ওই তথ্য দিয়েছিলেন।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে ২০০১ সালে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর এই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করায় ২০১৪ সালে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে এইচআরপিবি। পরে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫৪টি ট্যানারির মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ গত বছর ১৮ জুলাই এক আদেশে জরিমানা কমিয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জমা দিতে নির্দেশ দেন। শিল্পসচিবকে এ অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এ নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন না হওয়ায় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করে এইচআরপিবি।


মন্তব্য