kalerkantho


ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতি

সীমা বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর

ফারজানা লাবনী   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সীমা বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর

প্যাকেজ ভ্যাটের বিধান বাতিলে রাজি না হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতি সীমা বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করেছে। এ জন্য ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) আইন ২০১২ সংশোধন করতে হবে বলে জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।   

সূত্র জানায়, এনবিআরের সুপারিশ অর্থমন্ত্রী গ্রহণ বা বাতিল করতে পারেন। তিনি ভ্যাট অব্যাহতি সীমা বাড়াতে বা কমাতেও পারেন। বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন। প্রস্তাব অনুসারে ভ্যাট আইন ২০১২ সংশোধন করে ভ্যাট অব্যাহতি সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। সেটি হলে বছরে ৩৫ লাখ টাকা বেচাকেনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। একই সঙ্গে ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা ধার্যের পক্ষে মত দিয়েছে এনবিআর। অর্থাৎ ৩৫ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা বিক্রিতে ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বাড়লে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে ব্যবসায়ীকে সরকারি কোষাগারে একটি অর্থও পরিশোধ করতে হবে না। এতে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় কিছু ভ্যাট দিতে হবে। তবে ভ্যাট আইন ২০১২-তে ভ্যাট অব্যাহতি সীমা বাড়ানোয় ওই ব্যবসায়ীরা কার্যত ভ্যাটমুক্ত থাকছেন। ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিবেচনায় এনবিআর এ সুপারিশ করেছে। তবে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।   

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়, ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হলে ছোট ব্যবসায়ীরা ভ্যাট সীমার বাইরে থাকবেন। এতে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় থাকা ব্যবসায়ীদের একটি অর্থও ভ্যাট খাতে জমা দিতে হবে না। এ ছাড়া মাঝারি মাপের ব্যবসায়ীদের যাঁদের বছরে বিক্রি ৩৫ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত, তাঁদের ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। ভ্যাট অব্যাহতি সীমা বাড়ানোর পক্ষে মত জানালেও ভ্যাট আইন অনুসারে সব পণ্যে ভ্যাটের একই হার ১৫ শতাংশ পরিবর্তন করে ভ্যাটের ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণ সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এনবিআর।

সূত্র জানায়, ভ্যাট আইন ১৯৯০-এ প্যাকেজ ভ্যাটের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ সারা বছর বিক্রি যাই হোক না কেন বছর শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্যাকেজ ভ্যাট হিসেবে জমা দিতে হয় সরকারি কোষাগারে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্যাকেজ ভ্যাট ১৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ হাজার টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার, জেলা শহরের পৌর এলাকার জন্য সাত হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার এবং অন্যান্য এলাকার জন্য তিন হাজার ৬০০ থেকে সাত হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর ভ্যাট আইন ২০১২-তে প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল করে ভ্যাট অব্যাহতি সীমা নির্ধারণ করা হয়। আইনটি প্রস্তুতকালেই ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ২৪ লাখ টাকা ধার্য করা হয়। অর্থাৎ কোনো দোকানে বছরে ২৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে কোনো ভ্যাট দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু ভ্যাটের এ বিধানের ঘোর বিরোধিতা করে ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভ্যাটেই থাকতে চান। পরে এ সীমা ৩০ লাখ টাকা করা হলেও ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভ্যাট ছাড়তে রাজি নন।

ব্যবসায়ীদের অনড় অবস্থানে প্যাকেজ ভ্যাটের বিধান এ বছর বাতিল করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আগামী অর্থবছরে সম্পূর্ণ ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে অর্থমন্ত্রী অঙ্গীকারবদ্ধ। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনা করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কতটা ছাড় দেওয়া যায় অর্থমন্ত্রী তা জানতে চাইলে সম্প্রতি এনবিআর নতুন প্রস্তাবনা ও সুপারিশ তৈরি করেছে। এনবিআর এ পর্যায়ে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় থাকা ব্যবসায়ীদের ভ্যাটমুক্ত রাখার সুপারিশ করেছে।


মন্তব্য