kalerkantho


সূর্যে যাবে মহাকাশযান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সূর্যে যাবে মহাকাশযান

সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় ৯ কোটি মাইল। তাতেই তার তাপে নাজেহাল প্রাণজগৎ।

যদিও সূর্যের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে ত্র্রাণকর্তারূপে জীবনকে রক্ষা করছে ওজোনস্তর। আর পৃথিবীসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে ওজোনস্তরে তৈরি হয়েছে ক্ষয় ও গর্ত। ফলে সূর্য থেকে ক্ষতিকর রশ্মি আসছে পৃথিবীতে। এখন এ থেকে রক্ষার উপায়?

প্রাকৃতিকভাবেই সূর্যে অবিরত চলছে তেজস্ক্রিয় সৌরঝড়। এই ঝড় কিভাবে তৈরি হয় আর এর আগাম বিপদ বুঝতে পারলে অনাগত বিপদের আভাস পেত মানুষ। কিন্তু সূর্য তো অপার রহস্যের আধার। এখন পর্যন্ত মানুষের তৈরি কোনো অনুসন্ধানী যন্ত্র সূর্যের আশপাশে যেতে পারেনি। ফলে জ্বলন্ত সূর্যের আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। ফলে চিরকাল পুরোপুরি অজানাই থেকে গেছে রহস্যঘেরা আগুনের গোলা।

তবে আশার কথা, এবার হয়তো সেসব অজানা তথ্য পাওয়ার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, তারা পরিকল্পনা করেছে, ২০১৮ সালে (৩১ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট) সূর্যের কাছে একটি রোবটিক মহাকাশযান পাঠাবে। তারা এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘সোলার প্রোব প্লাস’ মিশন। প্রায় ১,৩৭৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে নাসার রোবটিক মহাকাশযানটির। রোবটিক যানটি ঘণ্টায় চার লাখ ৫০ হাজার মাইল গতিতে চলতে পারবে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে প্রথমবারের মতো সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছবে মানুষের তৈরি কোনো যন্ত্র; যা সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধকেও টপকে যাবে।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, জ্বলন্ত সূর্যের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে ৬০ লাখ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে যাবে মাহাকাশযান ‘সোলার প্রোব প্লাস’। পৃথিবী থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকা সূর্যের উপরিভাগে যাওয়া সম্ভব না হলেও যতটা সম্ভব কাছে যাবে মহাকাশযানটি। আর সে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আনবে।

গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী এরিক ক্রিস্টিয়ান বলছেন, ‘এ মিশন থেকেই হয়তো আমরা জানতে পারব সূর্যের পৃষ্ঠ, যাকে বলা হয় ফোটোস্ফেয়ার, এর তাপমাত্রা কোরনার মতো (সূর্যের চারপাশের আবহাওয়ামণ্ডল) উত্তপ্ত নয় কেন। সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রা মাত্র ৫,৭৭৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোরনার তাপমাত্রা ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সূর্যের পৃষ্ঠদেশের চেয়ে বায়ুমণ্ডল এত বেশি উত্তপ্ত কেন এটি একটি রহস্য। এ ছাড়া সৌরঝড়ের গতি এত বেশি হয় কিভাবে?’

নাসার দাবি, মহাকাশের আবহাওয়া বুঝতে সাহায্য করবে এই যান। এখন সৌরঝড়ের কারণে মহাকাশ থেকে তথ্য পাঠানোর কাজ মাঝেমধ্যেই ব্যাহত হয়। সোলার প্রোব প্লাস সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দেবে। এ ছাড়া সৌরঝড় কিভাবে তৈরি হয় এবং ঝঞ্ঝার আগাম বিপদ বুঝতে সাহায্য করবে নাসার এই যান। প্রায় ছয় বছর ১১ মাস ধরে সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে নানা তথ্য পাঠাবে নাসার মহাকাশযানটি। সূত্র : বিবিসি, মিরর।


মন্তব্য