kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ৮ থেকে ১০ এপ্রিল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ৮ থেকে ১০ এপ্রিল

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৮ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফর করবেন। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সফর করবেন। তবে নয়াদিল্লিতে তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকবেন। ভারত প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ তথা কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে এই বিরল সম্মান দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। দুই দেশের মধ্যে সামরিকসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪০টি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভারত একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহী। এ ছাড়া ভারতের প্রস্তাবিত ঋণের আওতায় সমরাস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম কেনার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রতিরক্ষা খাতে চুক্তি নিয়ে কোনো স্পর্শকাতরতা আছে কি না জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, স্পর্শকাতরতা বলতে তিনি এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশের সহযোগিতা ও সেনা পাঠানোর মতো বিষয় বোঝেন। প্রস্তাবিত চুক্তিতে এ ধরনের কোনো বিষয় নেই। বরং প্রশিক্ষণ, যৌথ অনুশীলনের মতো বিষয় চুক্তিতে আছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এমন সহযোগিতা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও ভারতে এখনো এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য সৃষ্টি হয়নি। ফলে তা পানিবণ্টন চুক্তিতে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে। তবে গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে এ বিষয়ে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে ভারত তার অঙ্গীকারের কথা বলে আসছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো এ চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দেননি। ভারত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় এবং এ জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে দিল্লির ওপর আস্থা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বেশ সময় নিয়ে হলেও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে এবং তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে উষ্ণ সম্পর্ক চলছে তা আরো এগিয়ে নিতে দুই দেশেরই শীর্ষ পর্যায়ে জোরালো চেষ্টা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর তাঁর বাংলাদেশ সফরে এ দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য সহযোগিতার ব্যাপারে নয়াদিল্লির বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কানেক্টিভিটিসহ আঞ্চলিক অনেক উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা ভারত গুরুত্ব দিয়ে স্বীকার করে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরো নতুন নতুন ঘোষণা এবং ঋণ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


মন্তব্য