kalerkantho


বাহার সহযোগিতা করবেন না : সীমা

আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাহার সহযোগিতা করবেন না : সীমা

কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র পদপ্রার্থীকে সহযোগিতা করবেন না। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা এমন দাবি করেছেন।

তিনি বলেছেন, তাঁকে কোনো রকম সহযোগিতার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য বাহার বলেছেন, তিনি দলের মেয়র পদপ্রার্থীকে সমর্থন ও দোয়া ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেন না।

গত সোমবার রাতে কুমিল্লা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীরের কার্যালয়ে সংসদ সদস্য বাহার ও মেয়র পদপ্রার্থী সীমার সাক্ষাৎ হয়। এর পরই দুজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সীমা মিষ্টি নিয়ে দলীয় সংসদ সদস্য বাহারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর মুনসেফবাড়ি এলাকার বাসায় যান। কিন্তু সংসদ সদস্য তখন বাসায় ছিলেন না। তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন সীমা। মিষ্টি তুলে দেন বাহারের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে। তিনি দুজনের কাছেই দোয়া চান।

সংসদ সদস্যের বাসায় সীমার যাওয়ার খবর শুনে আগে থেকেই সাংবাদিকরা সেখানে ভিড় জমান। মেয়র পদপ্রার্থী জানতে পারেন সংসদ সদস্য কুমিল্লা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে আছেন।

সীমা সেখান থেকে বেরিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাউন হলে যান এবং সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে গিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাংবাদিক ভিড় জমালেও কাউকে কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দুজনের সাক্ষাতের সময় সেখানে কুমিল্লা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আরফানুল হক রিফাত উপস্থিত ছিলেন।

রাত পৌনে ৯টার দিকে আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীরের কক্ষ থেকে বেরিয়ে সংসদ সদস্য ও মেয়র পদপ্রার্থী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সীমা বলেন, ‘দোয়া ছাড়া চাচা (সংসদ সদস্য) আমাকে কিছুই দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে এ ব্যাপারে যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জবাবদিহি করতে হয় তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছেই ব্যাখ্যা দেবেন। ’

অন্যদিকে সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গত নির্বাচনেও সীমার বাবা আফজল খানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাঁদের মনোনয়ন-ভাগ্য ভালো। তাঁরা নির্বাচনে খুব ভালো প্রার্থী, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সীমার ভাই আমার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। তারা নির্বাচনটা মনে হয় ভালো বোঝে। যার কারণে বারবার সব নির্বাচনে কেউ না কেউ প্রার্থী হয়। জয় তো ভোটারদের কাছে। প্রার্থী হওয়াটাই একটা যোগ্যতা। ’ 

সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে দোয়ার বাইরে অন্য কিছু করার আমার সুযোগ নাই। ’ তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমাকে নির্বাচন কমিশন থেকে অনুমতি এনে দেন আমি তার পক্ষে কাজ করব। নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুযোগ আমাদের নেই। প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমাদের সবার তার প্রতি দোয়া ও সমর্থন থাকবে। ’

বেগম রাবেয়া চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর সাক্ষাৎ : বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরের শিশুমঙ্গল রোডের বাসায় গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রাবেয়া চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি কুমিল্লা জেলা বিএনপির সভাপতি রাবেয়া চৌধুরীর সঙ্গে নির্বাচনে সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় দলের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর রাবেয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আমি চিনি। তিনি কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক ছিলেন। তিনি যদি মনে করেন, কুমিল্লায় একটি নাম রাখার মতো নির্বাচন দেবেন তাহলে অবশ্যই উনি চেষ্টা করে উনার সহযোগীদের নিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন। আমি যেমন চাইব তেমনি সাধারণ মানুষও চায় নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। পত্রপত্রিকায় যা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। বিএনপি এখন এক মঞ্চে। একসঙ্গে সবাই কাজ করছে। ’

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র সাক্কু বলেন, ‘অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য আমি এবারও মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছি। ’


মন্তব্য