kalerkantho


সংসদে আইনমন্ত্রী

গ্রাম সালিসের নামে সাজা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গ্রাম সালিসের নামে সাজা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে

গ্রাম সালিস বা বিচারের নামে সাজা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে এ ব্যাপারে সরকার সচেতন রয়েছে। গ্রাম্য সালিসদার, মেম্বার বা চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অমানবিক সাজা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। স্বতন্ত্র সদস্য রহিম উল্লাহর প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি আরো জানান, গ্রাম্য সালিসে অমানবিক সাজা, যেমন—চুল কেটে দেওয়া, কান ধরে উঠবোস করানো, নাকে খত দেওয়া, গলায় জুতার মালা পরানো, ঝাড়ুপেটা করে বাজারে ঘোরানো ইত্যাদি সাজা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ, উপজেলা  পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, দেশের জেলা আদালত থেকে আয় হয়। বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জেলা জজ আদালতগুলো থেকে মোট আয় হয়েছে ১০৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৪৭ হাজার টাকা।

আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার অন্য প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, আইন মন্ত্রণালয় সারা দেশের আদালতে মামলাজট কমিয়ে বিচারকাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৭টি।

তিনি আরো জানান, বিচার বিভাগ ডিজিটাইজেশন করতে বর্তমান সরকার ই-জুডিশিয়ারি শীর্ষক একটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে। দলিল নিবন্ধনে প্রাচীন পদ্ধতি থেকে আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরাপত্তায় আইন : জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদে জানিয়েছেন, মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়ন এবং অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন, জনবান্ধব সরকারি সেবা ব্যবস্থাপনা এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আইনসম্মত নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, রূপকল্প-২০২১-এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় স্বীয় অধিক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করতে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইনোভেশন টিম গঠন করা হয়েছে।


মন্তব্য