kalerkantho


কসোভোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বাংলাদেশ

সামুদ্রিক মৎস্য আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে উঠছে আজ

আশরাফুল হক রাজীব ও মেহেদী হাসান   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



স্বাধীনতা ঘোষণার ৯ বছর পর ইউরোপের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কসোভোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বাংলাদেশ। এসংক্রান্ত এজেন্ডা আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এ বৈঠক হবে।

কসোভো ইউরোপের বলকান অঞ্চলের একটি রাষ্ট্র, যা আগে সার্বিয়ার প্রদেশ ছিল। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রদেশটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ছিল। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ শতাধিক দেশ ইতিমধ্যে কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় এক দশক দেরিতে হলেও আমরা যদি কসোভোকে স্বীকৃতি দিতে পারি তবে তা ইতিবাচক হবে। ’ কসোভাকে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ ছিল কি না, জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক এ কূটনীতিক বলেন, ‘অনুরোধ ছিল। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি নিজেও এর পক্ষে সুপারিশ করেছিলাম। ’ তিনি বলেন, একটি দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর এ স্বীকৃতি দেওয়া আজ হয়তো রুটিন কাজ।

কিন্তু আরো আগে স্বীকৃতি দিতে পারলে বাংলাদেশের সঙ্গে ওই দেশটির সম্পর্ক ও কূটনীতি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারত।

কসোভো ইস্যুতে রাশিয়ার মনোভাব ও আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন মামলা এত দিন বাংলাদেশের স্বীকৃতি না দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো। তবে রাশিয়ার মনোভাবেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ অনেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ২০০৮-০৯ সালের দিকেই কসোভোকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

কসোভো ছাড়াও আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ‘সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০১৬’-এর খসড়া রয়েছে। খসড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নৌযান থামানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংকেত, কোড বা অন্য কোনো স্বীকৃত পদ্ধতির মাধ্যমে সমুদ্রে চলাচলকারী সংশ্লিষ্ট নৌযানকে থামার জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট নৌযান না থামলে সেটা থামতে বাধ্য করতে গুলি করার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে। পাশাপাশি সরল বিশ্বাসে করা কোনো কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে আইনে ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে জরিমানা দিয়ে আপস করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে বিভিন্ন নিয়ম না মানাজনিত অপরাধের কারণে সর্বোচ্চ জরিমানার কমপক্ষে পাঁচ ভাগের এক ভাগ টাকা গ্রহণের মাধ্যমে আপস করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই আপসকৃত টাকার পরিমাণ ২৫ হাজার টাকার কম হবে না। খসড়া অনুযায়ী, সমুদ্রে মাছ ধরতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি, মালিক বা কম্পানি লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাঁর কাজে বাধা দেওয়া হলে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার নৌযান বা স্থাপনা ধ্বংস করা হলে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, সমুদ্রে মাছ ধরার প্রতিটি জালের নির্ধারিত মাপের ফাঁস থাকবে। নিষিদ্ধ ফাঁসের জাল বা মাছ ধরার নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করলে দুই বছরের জেল বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ খসড়া আইনে পরিণত হলে সরকার যেকোনো এলাকার মৎস্য সম্পদ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের মজুদ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাখার জন্য সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করতে পারবে। এ ধরনের এলাকার জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। আর সমুদ্রে চলাচলকারী কোনো নৌযানের মালিক অপরাধ করার প্রমাণ নষ্ট করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থ দণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, বিপদগ্রস্ত নৌযান ও এর নাবিকদের নিরাপত্তায় নতুন বিপদ এড়ানোর জন্য বিদেশি নৌযান বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে পারবে।  

জানা যায়, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্যসম্পদের ব্যবস্থাপনা, আহরণ, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে আয় বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ১৯৮৩ সালে দ্য মেরিটাইম ফিশারিজ অর্ডিনেন্স জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশে অর্ডিনেন্স বাংলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। রূপান্তরের সময় নানা সংশোধনী আনা হচ্ছে।

এ ছাড়া আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ‘জাতীয় যুবনীতি, ২০১৭’ এর খসড়া রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। বাংলাদেশ ও ভুটান এবং বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য দ্বৈত করারোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধসংক্রান্ত চুক্তির খসড়াও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।


মন্তব্য