kalerkantho


ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ গুলিতে কিশোর নিহত

সিলেট অফিস   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ গুলিতে কিশোর নিহত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয়েছে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার হাতানিপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরের নাম সাইফুল ইসলাম (১৭)। সে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীচর গ্রামের মৃত শরফ উদ্দিনের ছেলে।  

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী আতাউর রহমান নিহত কিশোরকে তাঁর কর্মী বলে দাবি করেছেন। ঘটনার পর তাঁর সমর্থকরা উপজেলার তাজপুর এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

জানা যায়, দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দলের জেলা শাখার বহিষ্কৃত উপদপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান চৌধুরী জগলুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

তবে এ সময় গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে বিদ্রোহী প্রার্থী জগলু চৌধুরীকে নিয়ে সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক  চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কবির উদ্দিন, আরজু  মেম্বার, তাঁর ভাই বাহার মিয়াসহ বেশ কয়েকজন বাংলাবাজারে গণসংযোগে যান। সেখানে একটি চা স্টলের পাশের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীচরের কয়েকজন যুবককে তাঁদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা অপারগতা প্রকাশ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল ১০টার দিকে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে কিশোর সাইফুল নিহত হয়। তার বুকে গুলির আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় ব্যস্ত এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) কবির আহমদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে দুপুর সোয়া ২টায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতাউর রহমান দাবি করেছেন, নিহত সাইফুলের বাড়ি পাশের উপজেলায় হলেও সে নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ করে আসছিল।

অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তারুজ্জামান চৌধুরী জগলু বলেন, এটা সম্পূর্ণ সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। নির্বাচনে তাঁর অবস্থান ভালো হওয়ায় প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে।

ওসমানীনগর থানার ওসি আবদুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, কিশোরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সিলেটের নবগঠিত ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী সিলেট জেলা কমিটির সহসভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শিব্বির আহমদ। তিনি দলের কোনো পদে নেই।


মন্তব্য