kalerkantho


চট্টগ্রামে ছুরি মেরে হত্যা এসএসসি পরীক্ষার্থীকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামে ছুরি মেরে হত্যা এসএসসি পরীক্ষার্থীকে

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে ওয়াছিনুর রহমান আদেল (১৫) নামের মাধ্যমিকের (এসএসসি) এক পরীক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে নগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে তার বাবা বদিউল আলম বাচ্চু আহত হয়েছেন।

আদেল বেসরকারি চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি (বিজ্ঞান বিভাগ) পরীক্ষা দিচ্ছিল।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। তারা খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

বাকলিয়া থানার ওসি আবুল মনছুর বলেন, আদেলদের মূল বাড়ি দেওয়ানবাজার এলাকার আফগান মসজিদ এলাকায়। অন্যদিকে রাজাখালী মাস্টারপাড়া এলাকায় তাদের ভাড়া বাসা রয়েছে। শুক্রবার রাতে ওই ভাড়া বাসায় সংস্কারকাজ করছিল শ্রমিকরা। এ সময় পাশের আলমগীর নামের একজন ব্যক্তির সঙ্গে শ্রমিকদের ঝামেলা হয়। এর রেশ ধরে আলমগীর শ্রমিকদের মারধর করে।

তিনি আরো বলেন, মারধরের শিকার হওয়ার পর শ্রমিকরা আদেলের বাবা বদিউল আলম বাচ্চুকে খবর দেয়। পরে আদেলকে নিয়ে তার বাবা ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে আলমগীরকে মারধর করেন। এর কিছুক্ষণ পর আলমগীর তার পরিচিত বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে আদেল ও তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে বাবা ও ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আদেলকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্বজনরা তাকে জিইসি মোড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার বাবাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে মারা যায় আদেল।

বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাশরুল হকও আদেলের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গতকাল বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আদেলের সহপাঠী জুবায়ের সাঈদ নাফিস বলেন, ‘আমার বন্ধু আদেল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। যারা আমার বন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচারের দাবিতে মাঠে নেমেছি। ’

গত রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদেল হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান বাকলিয়া থানার ওসি।


মন্তব্য