kalerkantho


আলোচনাসভায় মওদুদ

সাজাপ্রাপ্ত হলেও নির্বাচন করতে পারবেন খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাজাপ্রাপ্ত হলেও নির্বাচন করতে পারবেন খালেদা

সাজাপ্রাপ্ত হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ কথা বলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যদি শাস্তি হয়ে যায়, উনার তো আর নির্বাচন করা সম্ভব নয়—এই যে একটা ধারণা, এটা সঠিক নয়। আমি পরিষ্কার করে বলছি, মিথ্যা মামলায় তাঁর যদি সাজাও হয়, আগামী নির্বাচনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ’

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টি আয়োজিত ‘পিলখানা ট্র্যাজেডি : সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্বও দিতে পারবেন; জোটের নেতৃত্বও দিতে পারবেন।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ধরে নিলাম, মিথ্যা মামলায় তাঁর সাজা হয়ে গেল। তখন আমরা আপিল ফাইল করব। তখন আমরা তাঁর জন্য ইনশাল্লাহ জামিন নেব। বেগম জিয়া সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই কথাগুলো বুঝতে যেন অসুবিধা না হয়।

উনি যদি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে যান, তাহলে আগামী তিন বছর বা সাত বছর জেলখানায় থাকবেন, এটা হয় না। ’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আপিল ফাইল করার পরই আমরা জামিনের জন্য দরখাস্ত করব। সাধারণত তিন বছর সাজা হলে জামিন এমনিতেই হয়। আর সাত বছরের শাস্তি হলে হয়তো অল্প কিছু দিন ব্যবধানে জামিন নিশ্চিত হবে। জেলখানা থেকে খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন। এটাই হলো কথা। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, নানা রকমের কথাবার্তা এগুলো অপ্রাসঙ্গিক। ’ খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাঁর জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদলীয় কোনো নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে আর হবে না। বিএনপি ও জোটের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলবে, আন্দোলনও চলবে। সেই আন্দোলন দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আন্দোলন, যাতে সব শ্রেণির মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে।

বিএনপি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চায় জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, এটি সম্ভব না হলে আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে জাতীয় ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, বিচার কিছু হয়েছে। তবে যারা এর পেছনে ছিল, তাদের বিচার এখনো হয়নি। তখন সরকার অবহেলা করেছে—হত্যাকাণ্ড নিবারণের ব্যাপারে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ ও খায়রুল কবির খোকন, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক রহমান এবং এমদাদুল হক চৌধুরী আলোচনা করেন।


মন্তব্য