kalerkantho


হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারেনি বিবিসি-সিএনএন নিউ ইয়র্ক টাইমস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারেনি বিবিসি-সিএনএন নিউ ইয়র্ক টাইমস

মিডিয়ার সঙ্গে ‘বিরামহীন শত্রুতা’র ধারাবাহিকতায় এবার হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হলো না শীর্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদকদের। তাঁদের মধ্যে সিএনএন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও বিবিসির সাংবাদিকরাও রয়েছেন।

হোয়াইট হাউস থেকে এ সিদ্ধান্ত আসার কয়েক ঘণ্টা পর কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) আবারও মিডিয়াকে ‘গণশত্রু’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। তবে এ ঘটনায় মিডিয়া জগতে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার গত শুক্রবার প্রেস ব্রিফিং করেন। এ ব্রিফিংয়ে ঢুকতে পারেনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, পলিটিকো, বিবিসি ও গার্ডিয়ানের মতো বড় বড় পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থা। এই পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থার কর্মীরা যখন স্পাইসারের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন জানানো হয় যে তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় নেই।

যাঁরা ঢুকতে পেরেছেন, তাঁরাও ছবি তোলার বা ভিডিও করার অনুমতি পাননি। অবশ্য রয়টার্স, ব্লুমবার্গ ও সিবিএসের মতো আরো ১০টি প্রতিষ্ঠান বিনা বাধায় সংবাদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। তবে ঠিক কী কারণে হোয়াইট হাউস শীর্ষ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নিল, তা খোলাসা করেননি প্রেস সেক্রেটারি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে রীতিমতো ‘তুলাধোনা’ করা হয় শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোকে।

শন স্পাইসার বলেন, ‘আমরা সঠিকভাবে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি কি না, সেটাই প্রধান বিষয়। আমরা আপনাদের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব নিশ্চিত করতে চাই, তাই বলে এই নয় যে প্রতিবারই ক্যামেরার সামনে সব বলতে হবে। ’ পরে এক বিবৃতিতে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, যেহেতু হোয়াইট হাউসের পুল রয়েছে, সেহেতু তারা অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং আমাদের কাছ থেকে সব তথ্য পাবে। হোয়াইট হাউসের প্রেসপুলে একটি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি রেডিও, একটি পত্রিকা ও কিছু সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকদের অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ পুলের অংশ হিসেবে এনবিসি, এবিসি, সিবিএস ও ফক্স নিউজকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাধা দেওয়া হয় সিএনএনকে। ঠিক একইভাবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকেও বাধা দেওয়া হয়।

ক্যামেরা বন্ধ রেখে সংবাদ সম্মেলনের এ ধারণা নতুন কিছু নয়। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে সব সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ এবং প্রশ্ন করার রীতি অনেক পুরনো। তবে এ ঘটনায় মিডিয়া জগতে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ আচরণের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে সিএনএন বলেছে, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়ার মতো নয়। দৃশ্যত, ট্রাম্পের অপ্রিয় সত্য খবর প্রকাশ করায় এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছে। আমরা সংবাদ পরিবেশন চালিয়ে যাব। ’ নিউ ইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডিন বাকেটও এ আচরণের নিন্দা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে বর্জন করায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে এ রকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ’

এপি, টাইম ম্যাগাজিন ও ইউএসএ টুডেও ওই ব্রিফিং বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ওয়াশিংটন পোস্ট, পলিটিকোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিপিএসি কনফারেন্সে মিডিয়াকে মার্কিন জনগণের শত্রু আখ্যা দেন ট্রাম্প। অতীতের ধারাবাহিকতায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের জানাতে চাই যে সংবাদের নামে চলমান গুজবের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। ’ ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি মিডিয়াকে গণশত্রু আখ্যা দিয়েছিলাম। আজও আমি একই কথা বলছি। ’ গত সপ্তাহে তিনি টুইটারে লিখেছিলেন : ‘গুজব সৃষ্টিকারী মিডিয়াগুলো (নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ, সিবিএস, সিএনএন) শুধু আমার শত্রু নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শত্রু। ’ সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, এএফপি।

 


মন্তব্য