kalerkantho


পুরান ঢাকায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে তিনজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুরান ঢাকায় প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীর ইসলামবাগে প্লাস্টিক কারখানায় গতকাল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর ইসলামবাগে একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো শামীম মিয়া (২৮), তাঁর স্ত্রী শীলা (২৩) এবং শীলার বোন সালেহা (১২)।

গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্লাস্টিক কারখানার গুদামের আগুন তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন নেভানোর পর রাতে একটি ভবনের সিঁড়িতে তিনজনের লাশ পাওয়া যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিনশেডের দোতলা ভবনে হঠাত্ করে আগুন ধরে যায়। ওই ভবনের নিচে একটি প্লাস্টিকের কারখানা থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত কারখানা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর পর সেখান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে আরো লাশ আছে কি না তা তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে।

তাঁরা আটকে পড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, শামীম পরিবার নিয়ে ওই টিনশেট ভবনে থাকতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁর দুই শিশুসন্তান বাইরে ছিল। গুদামে আগুন লাগার পর তা পাশের তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে তৈরি এসব ভবনের  কোনো কোনো অংশে দোতলা পর্যন্ত পাকা সিঁড়ি, ছাদ রয়েছে। এর ওপরে টিন-কাঠ দিয়ে আরো তিন-চার তলা করা হয়েছে। প্রায় সব ভবনের ওপরের অংশ পুড়ে দোতলায় ঠেকেছে। ’

স্থানীয়রা জানায়, টিনশেড ওই বাড়িতে প্লাস্টিকের কারখানা ও বসতবাড়িও রয়েছে। এক পাশে কারখানা, অন্য পাশে লোকজন বসবাস করে। আগুন লাগার পর ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কে ওই ভবন থেকে বেরিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। আশপাশের লোকজন আগুন নেভাতে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই গুদামে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট গিয়ে তা নেভাতে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানে দোতলা ওই ভবনে আগুন লাগে। আগুনের কারণে টিনশেড ভবনটি নিচের প্লাস্টিক কারখানার ওপর ভেঙে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও কিছু স্থানে ধোঁয়া বের হয়।

গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে নিহত তিনজনের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। চকবাজার থানার ওসি শামীম অর রশীদ বলেন, পুরান ঢাকার ঘটনায় নিহতদের কারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

ফায়ার সার্ভিসের হাজারীবাগের স্টেশন অফিসার মো. সাইদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নিহত তিনজনকে কারখানার সিঁড়িতে পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে একজন নারী, একজন পুরুষ এবং অন্যজন মেয়ে শিশু। তাঁরা একই পরিবারের। ’


মন্তব্য