kalerkantho


সিলেট নগরের উন্নয়নে বাংলাদেশ ভারত সমঝোতা স্মারক সই

সিলেট অফিস   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিলেট নগরের উন্নয়নে বাংলাদেশ ভারত সমঝোতা স্মারক সই

সিলেট নগরের টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ, ভারত ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে সিলেট সার্কিট হাউসে এ স্মারক সই হয়।

স্মারক অনুয়ায়ী ‘কনস্ট্রাকশন অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর এডুকেশন অ্যান্ড বেটার এনভায়রনমেন্ট অব সিলেট সিটি করপোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

এই স্মারক সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. আমিনুল হক, ভারত সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব এতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। ভারত সরকারের প্রতিশ্রুত এ অনুদান সহায়তা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো খাতে স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যা দুই দেশের উন্নয়ন অংশীদারমূলক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ভারত সরকার সিলেটের জন্য যে তিনটি প্রকল্পে অনুদান দিচ্ছে, ওই তিনটি প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে এসব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের তিনটি প্রধান শহর সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ভারত অনুদান দিচ্ছে। সিলেটে বরাদ্দ করা অনুদানের মাধ্যমে একটি পাঁচতলা কিন্ডারগার্টেন স্কুল, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য একটি ছয়তলা ভবন এবং নগরের ধোপাদীঘিরপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে।

সিলেট শহরবাসী এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আপনারা জানেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আজ দুই দেশের মধ্যে চমত্কার সম্পর্ক বিরাজ করছে। আমরা অবশ্যই শান্তিতে-সংহতিতে এবং সুসময়ে-দুঃসময়ে ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অন্যের পাশে থাকব। ’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. আমিনুল হক তাঁর বক্তব্যে জানান, উন্নয়নের সিঁড়িতে ভারত ও বাংলাদেশ একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে অনেকটা হাত ধরাধরি করে কাজ করছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনের এ রকম একটি দ্বিপক্ষীয় অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে অভূতপূর্ব সহযোগিতা করেছে, তা বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য দিনটি ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেট নগরের উন্নয়নকাজে ভারতীয় সরকারের এই অনুদান একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা।

অনুষ্ঠানে তিনটি প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।


মন্তব্য