kalerkantho


মুক্তির উৎসব

অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার শপথ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার শপথ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত মুক্তির উত্সব ২০১৭। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুক্তির চেতনায় বেড়ে ওঠার স্বপ্নে উৎসবমুখর সময় কাটাল রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। দৃীপ্তকণ্ঠে তারা বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী, উদার, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার শপথ নিল।

যাঁদের আত্মদানে ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন, শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মৃতি বহন করা, নারী-শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, সব ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষের অধিকার রক্ষা এবং ধর্মের অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষ হত্যা প্রতিরোধেরও শপথ নিল তারা। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকারও করল তারা।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘মুক্তির উৎসবে’ তারা এসব শপথ নেয়। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ বীর-উত্তম।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের শিক্ষা কর্মসূচির অধীনে বিগত বছরে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ষষ্ঠদশ বার্ষিক মুক্তির উৎসবের এ আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নেয় রাজধানীর প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী। ছায়ানটের শিল্পীদের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন নির্বাচিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তারপর দেশের গানের সঙ্গে নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করে স্পন্দনের শিল্পীরা।

উৎসবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘২১ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে যাত্রা শুরু করেছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

আজ এ উৎসবে এসে আমরা পশ্চাত্পদতা, ধর্মান্ধতা থেকে দেশকে নিরাপদ রাখব—এ আহ্বান জানাই। যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে ধর্মকে সন্দেহজনক করে তুলছে, আসুন সেই আবর্জনাগুলোকে দূর করি। ’

তারপর মঞ্চে একে একে নানা অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে সানিডেল স্কুল, ক্যালিক্স প্রিক্যাডেট স্কুল, দক্ষিণখান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুল্লাহ মেমোরিয়াল হাইস্কুল, ইউসেফ স্কুল ও বধ্যভূমির সন্তানদল। দেশের গান শোনান ফেরদৌস আরা ও বাপ্পা মজুমদার। সব শেষে ছিল জলের গানের পরিবেশনা।

শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালও এসেছিলেন উৎসবে। তিনি বলেন, ‘তোমাদের হাসিমুখ দেখার জন্য এখানে এসেছি। তোমাদের দেখে আমার ভালো লাগছে, কারণ তোমরাই দেশ গড়বে। তোমাদের মতো শিক্ষার্থীরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিল। তোমাদের যুদ্ধ হলো, তোমরা যে চার কোটি শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছ, তারা দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। আজ তোমরা নতুন এক যুদ্ধ শুরু করেছ, এ যুদ্ধ দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার। ’

পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার শোনালেন মুক্তির কথা, বিজয়ের কথা। এবার স্বাধীনতা দিবসে নিশাতের অভিযাত্রী দলটি একাত্তরের শরণার্থী ও বিপন্ন মানুষের কথা স্মরণ করে হেঁটে যাবে শহীদ মিনার থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত। সেই অভিযাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান নিশাত।

কবি তারিক সুজাত পাঠ করলেন তাঁর ‘জন্মের আগে আমি মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন’ কবিতাটি। সব শেষে মঞ্চে আসে জলের গান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, মফিদুল হক ও আক্কু চৌধুরী। উৎসবে আগত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানের ফাঁকে ঘুরে দেখে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

আয়োজনে আরো ছিল চিত্রপ্রদর্শনী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম হয় বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান। এতে মোট ১০০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।


মন্তব্য