kalerkantho


হত্যা মামলার আপিল শুনানি চলছে

সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে সৈনিকদের

ওমর ফারুক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে সৈনিকদের

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, বিডিআর বিদ্রোহ তথা পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ভয়াল সেই দিন। আট বছর আগে ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হয়ে শেষ হয়েছিল পরের দিন। জওয়ানদের গুলি ও হামলায় পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জন বিডিআর জওয়ানের ফাঁসির দণ্ড হয়েছে। সেই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি চলছে। আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল শুনানি মুলতবি রয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহের পর বাহিনীটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বিজিবি। বিদ্রোহের আগে সৈনিকরা বঞ্চনার কথা বললেও এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, গত কয়েক বছরে সৈনিকদের কল্যাণে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তাদের মানসিক প্রশান্তির জন্য বছরে দুই মাসের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ছুটিতে যাওয়ার আগে দুই মাসের বেতনও নিতে পারছে তারা অগ্রিম। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সীমান্ত এলাকায়। নতুন করে বাহিনীটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার সদস্য। যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতিও পাচ্ছে তারা। এ ছাড়া তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ সীমান্ত ভাতা। আর এসব সুযোগ-সুবিধার কারণে বিজিবি জওয়ানদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিজিবির জওয়ানদের জন্য সুযোগ-সুবিধা অনেক বাড়ানো হয়েছে। এতে তারা খুশি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তত্কালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর সে বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা মামলা হয়েছিল। পরে মামলা দুটি স্থানান্তর করা হয় নিউ মার্কেট থানায়। হত্যা মামলার বিচারকাজ চলে লালবাগে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় দেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তত্কালীন বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপি নেতা নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু (কারাগারে মৃত্যু), স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে আরো ২৫৬ জনকে। খালাস পান ২৭৭ জন।

নিম্ন আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি ১৩৮ জনসহ অন্য আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করে। আদালত সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় শুনানি। গত বৃহস্পতিবার ৩৫৯তম দিনের (কার্যদিবস) মতো শুনানি হয়। ওই দিন আপিল শুনানি আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট।  

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনকে শোক

দিবস ঘোষণার দাবি বিএনপির

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এই দাবি জানান।


মন্তব্য