kalerkantho


গুলশান হত্যাযজ্ঞ

ইতালির নিহতদের পরিবারের সঙ্গে পোপের সাক্ষাৎ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইতালির নিহতদের পরিবারের সঙ্গে পোপের সাক্ষাৎ

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত ইতালীয়দের পরিবারের সঙ্গে ভ্যাটিকানে সাক্ষাত্কালে শিশুদের মাঝে পোপ। ছবি : ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি

রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ইতালীয় নাগরিকদের পরিবার পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। নিহত ৯ জনের পরিবারের ৩৬ সদস্য গত বুধবার ভ্যাটিকানে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

সেখানে তিনি বলেন,

‘ভালোবাসার পথ ছেড়ে ঘৃণার পথ ধরা সহজ। কিন্তু ঘৃণা ছেড়ে ভালোবাসার পথে হাঁটা কঠিন। ’

গত ১ জুলাইয়ের ওই জঙ্গি হামলায় মোট ২৮ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ছয় হামলাকারী, দুই পুলিশ কর্মকর্তা, একজন ভারতীয়, একজন মার্কিন ও ৯ জন করে ইতালি ও জাপানের নাগরিক ছিল।

ভ্যাটিকানের পত্রিকা এল’ওসারভেটর রোমানো জানায়, বুধবারের সাক্ষাতের সময় পোপ ফ্রান্সিস নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা অবশ্যই আপনাদের মনে ঘৃণা ও প্রতিশোধের মনোভাব তৈরি করেছিল। কিন্তু আপনারা সেই মনোভাব মুছে ভালোবাসার পথেই হেঁটেছেন। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি তরুণদের লেখাপড়ায় সহায়তা করেছেন।

আসলে এটাই শান্তির পথ। এ জন্য আমি আপনাদের সাধুবাদ জানাই। আপনাদের এই ত্যাগ আমার কাছে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। ’

সাক্ষাতের সময় পোপের সামনে ইতালির নিহত ৯ নাগরিকের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া পোপ নিহতদের নামে ৯টি জলপাইয়ের চারা রোপণ করেন।

সাক্ষাত্কালে নিহতদের স্বজনরা গুলশান হামলার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে নিজেদের কিছু কর্মকাণ্ডের কথা পোপের সামনে তুলে ধরে। নিহত একজনের ভাই জানান, তিনি ঘটনার পর ঢাকায় যান এবং একটি চার্চের উন্নয়নে সহায়তা করেন। নিহত আরেকজনের পরিবার জানায়, তারা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরে চার্চ স্থাপনে সহায়তা করেছে। ঘটনার পর বাংলাদেশের তরুণদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালুর কথাও জানায় একটি পরিবার।

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা আছে পোপ ফ্রান্সিসের। তবে দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও গত নভেম্বরে সাংবাদিকদের জানান, পোপ ২০১৭ সালের নভেম্বরে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে আসতে পারেন। সূত্র : ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি।


মন্তব্য