kalerkantho


এডিপি থেকে কমছে ৬৫০০ কোটি টাকা

আরিফুর রহমান   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এডিপি থেকে কমছে ৬৫০০ কোটি টাকা

আবারও সেই সংশোধনের পুনরাবৃত্তি। অর্থবছরের শুরুতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রচুর টাকা বরাদ্দ দিয়ে চমক দেন অর্থমন্ত্রী।

কিন্তু খরচ করতে না পেরে বছরের মাঝামাঝি এসে এর বড় একটি অংশ ফেরত দেয় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এডিপিতে এক লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রেখেছিল সরকার। সেখান থেকে ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা কাটছাঁট করেছে পরিকল্পনা কমিশন। যার পুরোটাই উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় সংশোধিত এডিপির আকার এক লাখ চার হাজার ২০০ কোটি টাকা চূড়ান্ত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) এটি অনুমোদনের কথা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলেছে, প্রতিবারের মতো এ বছরও সংশোধিত এডিপিতে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বড় প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ কমছে। কারণ বছরের শুরুতে বরাদ্দ দেওয়া টাকা খরচ করা যাচ্ছে না।

ফলে অর্থ ফেরত দিচ্ছে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। এর পুরোটাই ফেরত যাচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীদের বরাদ্দ থেকে। এসব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীদের টাকায়। সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে পরিবহন খাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে ভৌত ও শিক্ষা খাত। কমিশন সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে রাখা হয়েছিল ছয় হাজার ২৬ কোটি টাকা। সেখান থেকে এক হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছে সেতু বিভাগ। ফলে পরিকল্পনা কমিশন সংশোধিত এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ রেখেছে চার হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। মেট্রো রেল প্রকল্পে এডিপিতে দেওয়া হয়েছিল দুই হাজার ২২৭ কোটি টাকা। সেখান থেকে এক হাজার কোটি টাকা কমিয়েছে কমিশন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। কমিশন সূত্র বলেছে, সরকার যে দশটি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এর সবটার বরাদ্দই কমছে। মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রে এ বছর এডিপিতে রাখা হয়েছিল দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে এর থেকে ৫০০ কোটি টাকা কমানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান প্রশান্ত কুমার কালের কণ্ঠকে বলেন, সংশোধিত এডিপিতে এক লাখ চার হাজার ২০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। তবে এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজ ক্ষমতাবলে কখনো কখনো বরাদ্দ বাড়িয়ে দেন। এটা নির্ভর করে চাহিদার আলোকে। এ বছর মন্ত্রণালয়গুলোর তেমন চাহিদা দেখা যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বছরের শুরুতে বাড়তি টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, তারা সে টাকা খরচ করতে পারে না। সে জন্য সংশোধিত এডিপির আকার কমে যায়।

কমিশন সূত্র বলেছে, এ বছর মূল এডিপিতে রাখা এক লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়ার কথা ৭০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বাকি ৪০ হাজার কোটি টাকা আসার কথা ছিল বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে। সংশোধিত এডিপিতে যে ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমেছে তার পুরোটাই হয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার বরাদ্দ থেকে। সরকারি কোষাগার থেকে সংশোধিত  এডিপিতে আরো ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন ৩৩ হাজার কোটি টাকা আসবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই বর্ধিত সভায় একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছরই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার দেওয়া টাকা ফেরত যায়। সরকারি কোষাগারের টাকা খরচে সবার আগ্রহ বেশি। কারণ, এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দরকার হয় না। যেটা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার টাকা খরচের সময় করতে হয়। বিশেষ করে পাঁচ-ছয় বছর ধরে উন্নয়ন সহযোগীরা কেনাকাটায় বাড়তি নজরদারি করছে।

কমিশন সূত্র বলেছে, সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ টাকা দেওয়া হয়েছে পরিবহনে—২৫ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাকা থাকছে ভৌত পরিকল্পনা, পানি ও গৃহায়ণ খাতে—১৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৩ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ পাচ্ছে  শিক্ষা—১২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১২ শতাংশ। চতুর্থ সবোচ্চ বিদ্যুৎ খাত—১২ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ। পঞ্চম সর্বোচ্চ রাখা হয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের জন্য—৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯ শতাংশ।

সূত্র বলেছে, সংশোধিত এডিপিতে বিশেষ প্রয়োজনে এক হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। বিশেষ কোনো প্রকল্প অনুমোদন কিংবা অপ্রত্যাশিত প্রয়োজন মেটাতে এখান থেকে খরচ করতে পারবে সরকার। এর বাইরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বিশেষ এলাকার উন্নয়নে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা থাকছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এক হাজার ৪১৫টি প্রকল্প ঢুকছে।


মন্তব্য