kalerkantho


বাড়িতে খুশির জোয়ার

বদরুলের কঠিন শাস্তি চাইলেন খাদিজা

সিলেট অফিস ও নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বদরুলের কঠিন শাস্তি চাইলেন খাদিজা

বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের বেপরোয়া হামলায় গুরুতর আহত হয়ে প্রায় পাঁচ মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গতকাল সিলেটে নিজের বাড়িতে ফেরেন খাদিজা আক্তার নার্গিস। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার চাপাতির কোপে গুরুতর আহত কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে গতকাল শুক্রবার বাড়ি ফিরেছেন। সিলেট পৌঁছেই সেই বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের দ্রুত কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর যেন কোনো কলেজ ছাত্রীকে আমার মতো এমন হামলার শিকার হতে না হয়। ’

সিলেট ও ঢাকায় চিকিৎসার পর সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) প্রায় তিন মাস চিকিৎসা নিয়েছেন খাদিজা। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেন সিআরপির হেড অব মেডিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড কনসালট্যান্ট নিউরোসার্জন ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলালসহ সিআরপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিআরপি থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে প্রথমে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান খাদিজা। সেখান থেকে একটি উড়োজাহাজে করে দুপুর সোয়া ১টার দিকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। এ সময় তাঁকে বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছিল। তাঁর সঙ্গে বাবা মাসুক মিয়া ও ভাই শারনান হক শাহীন ছিলেন।

বিমানবন্দরে খাদিজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এখন বেশ ভালো আছি। দেশবাসী আমার জন্য দোয়া করেছেন। সবার দোয়ায় ভালো আছি।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছি। খুব ভালো লাগছে। সবাই যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, আগামী দিনেও থাকবেন আশা করি। ’ এ সময় তিনি হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের দ্রুত বিচার ও কঠিন শাস্তি দাবি করেন। এরপর মাইক্রোবাসে করে দুপুর ২টার দিকে জালালাবাদ থানার আউশায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেন তিনি।

খাদিজার ভাই শারনান হক শাহীন বলেন, ‘খাদিজা ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যরা খুশি। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই খাদিজা সুস্থ হয়ে ফিরতে পেরেছে। ’ 

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি এক সপ্তাহের জন্য গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন খাদিজা। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।

খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া জানান, আগামীকাল রবিবার খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন খাদিজা। এর আগে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসকের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘খাদিজা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসায় আমরা সবাই খুশি। আর কোনো খাদিজা যেন নৃশংসতার শিকার না হয়, এটাই আমরা চাই। একই সঙ্গে খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। ’ 

খাদিজার চিকিৎসক সিআরপির ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, খাদিজা এখন সুস্থ আছেন এবং সক্রিয়ভাবে নিজের সব কাজ করতে পারছেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে। তাঁর কোনো খিঁচুনি নেই। যৎসামান্য কিছু ওষুধ খেতে হচ্ছে। তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পাঁচ-ছয় বছর লাগবে। সিলেটে সিআরপির একটি সেন্টার আছে। ওই সেন্টারের মাধ্যমে সাভার সিআরপির সহযোগিতায় খাদিজাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।  

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলমের চাপাতির উপর্যুপরি কোপে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঢাকায় এনে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কয়েক দফা অস্ত্রোপচারও করা হয়। এরপর স্কয়ার হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় সাভারের সিআরপিতে।

খাদিজার ওপর হামলার ঘটনায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস। গত বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বদরুল। তাকে সিলেট কারাগারে পাঠান আদালত। গত ৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরের শাহ পরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরে ৫ ডিসেম্বর, ১১ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ৩৩ জন। এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণে আগামীকাল রবিবার দিন ধার্য রয়েছে।


মন্তব্য