kalerkantho


বিরোধে হকার খুন

চার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চাঁদনীচক পেছনে রাজনৈতিক নেতারা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চাঁদনীচক পেছনে রাজনৈতিক নেতারা

বুধবার হকার খুনের ঘটনায় সিসিটিভিতে ধারণ করা ছবিতে সম্ভাব্য খুনি। ছবি : সংগৃহীত

ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা আর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরেই রাজধানীর চাঁদনীচক মার্কেটে হকার খোকন মোল্লা খুন হয়েছেন। আর সেখানকার গ্রুপগুলোর পেছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁদনীচক মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

হকার খুনের ঘটনার তদন্তের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ফুটপাতের আধিপত্য, মাদক ব্যবসা আর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আতঙ্কের ছাপ : গতকাল সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট সংলগ্ন চাঁদনীচক মার্কেটে ঢুকতেই চোখে পড়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ। আশপাশে পুলিশ ও র‌্যাবের উপস্থিতি। তিন তলার যে সিজান রেস্টুরেন্টের ভেতরে হকার খোকন মোল্লাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয় সেখানে গতকাল ছিল ভীতির ছাপ। ক্রেতাও কম বলে জানায় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

চার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ফুটপাত : হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাহাবুদ্দিন, রিপন, সোহেল ও রফিক এলাকার ত্রাস বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। তাদের ফুটপাতের মোড়ল বলে ঢাকা হয়। তাদের প্রত্যেকের আলাদা গ্রুপ আছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানায়, চাঁদনীচক মার্কেটের সামনের ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা চলছে। ওই চারটি গ্রুপ এই ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে। এর পাশাপাশি ইয়াবার কারবার ও চাঁদাবাজি থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা আদায় করে তারা।

তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তবে কোনো রাজনৈতিক নেতার নাম বলতে চায়নি কোনো ব্যবসায়ী।

চাঁদনীচক মার্কেট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী চার গ্রুপের নিজস্ব কোন্দলের জের ধরেই হকার খোকন খুন হয়েছেন।  

ব্যবসায়ীরা জানায়, নিহত খোকন ও আহত বাবুল চাঁদনীচকের সামনের ফুটপাতে কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। তাঁদের পাশে ব্যবসা করত সাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন। তারা একসময় একই গ্রুপে ছিল। তবে পরে তারা আলাদা গ্রুপের হয়ে কাজ করে।

যেভাবে হত্যা : ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিজান রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক ফারুকসহ অন্যরা জানান, খোকন ও বাবুল এক গ্রুপের সদস্য। তাঁরা গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন। একই সময় সাহাবুদ্দিন, রিপন ও সোহেলও সেখানে ঢুকে আলাদা টেবিলে বসে ভাত খায়। খাওয়াদাওয়া শেষে সাহাবুদ্দিন, সোহেল ও রিপন বের হয়ে নিচে নামে। তখনো খোকন ও বাবুল রেস্টুরেন্টে ছিলেন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সাহাবুদ্দিন, রিপন ও সোহেল আবার রেস্টুরেন্টে ফিরে খোকন ও বাবুলকে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য চাঁদনীচক মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এতে সাহাবুদ্দিনের হাতে রক্তমাখা ছুরি দেখা গেছে।

খোকনের লাশ ফরিদপুরে : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে খোকনের লাশ দাফনের জন্য গতকাল সকালে ফরিদপুরের শাওতা এলাকার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।


মন্তব্য