kalerkantho


নরসিংদীতে ছোট তিন ভাই-বোন হত্যার নেপথ্যে ৩ কারণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নরসিংদীতে ছোট তিন ভাই-বোন হত্যার নেপথ্যে ৩ কারণ!

নরসিংদীর আলোকবালীতে বড় ভাই রুবেলের হাতে ছোট তিন ভাই-বোনের খুন হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তিনটি সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে।

কারণগুলো হলো পারিবারিক কলহ, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং মানসিক সমস্যা। কারণ তুচ্ছ কারণে হঠাত্ প্রচণ্ড রেগে যাওয়ার সমস্যা ছিল রুবেলের। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেলের মানসিক অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘাতক রুবেল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত আগামী শনিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রুবেলের মানসিক স্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, এ বিষয়ে সব না জেনে মন্তব্য করা উচিত নয়। যদি মানসিক সমস্যা থেকে এ কাজ করে থাকে বলে মনে হয়, তাহলে এর কারণ জানতে তার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কথা বলতে হবে। কথা না বলে এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে এটা ঠিক, একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়।

গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার আলোকবালীতে মেজ ভাই রুবেল মিয়ার হাতে সহোদর ভাই-বোন খুন হয়। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে বড় ভাই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক রুবেল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। নিহতরা হলো ইয়াসিন মিয়া (১০), মরিয়ম বেগম (৭) ও মাহিয়া বেগম (৫)। তাদের বাবার নাম আবু কালাম।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৬টায় তাদের লাশ গ্রামের বাড়ি আলোকবালীতে পৌঁছে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে হূদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদরের সন্তানদের নিথর মুখগুলো দেখে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন মা কুলসুম বেগম। এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি উপস্থিত গ্রামবাসীও। রাত ৮টায় স্থানীয় আলোকবালী আবদুল মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় আলোকবালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হয়।

চোখের নয়নের মণি সন্তানদের হারানোর কারণ জানা নেই মা কুলসুম বেগমের। শূন্য বাড়িতে মন বসে না মায়ের। বাড়ির পার্শ্ববর্তী আলোকবালী দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার যে কক্ষটিতে ছোট ছেলে ইয়াসিন থাকত তার সামনে উদাস মনে সময় কাঁটছে তাঁর।

মেজ ছেলের এই নির্মমতার কারণ জানতে চাইলে মা কুলসুম বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রুবেলের বউ ক্ষেতে কাজ করায় সন্ধ্যায় হেয় (রুবেল) আমার লগে কথা-কাটাকাটি করে। বলে, বউ গিরস্থি (কৃষি) করে কেরে? হুজুরের (বড় ছেলের) বউ পর্দায় থাকব, হের বউ কাজ করত কেরে? হেয় বউরে পর্দায় রাখব। আমি বলেছিলাম, গিরস্থি না করলে আমি পোলা-মাইয়াগো কী খাওয়াইব। এই ঝগড়া থেকে সে এমন কাজ যে করব তা ভাবতারছি না। ’

কুলসুম বেগম আরো বলেন, রুবেল প্রায়ই পার্শ্ববর্তী কেরা পাগলার মাজারে যায়। সেখান থেকে যখনই আসত, তখনই অসংলগ্ন আচরণ করত। নিহত ছোট ভাই-বোনদের সে বেশি আদর করত বলে জানিয়ে মা বলেন, ‘তার দয়াও বেশি, চেতও (রাগ) বেশি। ’

রুবেলের মাসহ পরিবারের অন্যরা জানান, রুবেলের দাবি ছিল, তার বউ বাড়িতে পর্দানশিন থাকবে। সে মাজারে গেলে ফিরেই পরিবারে ধর্মীয় বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করত। সে নিয়মিত নামাজ পড়ে। সে ভাই-বোনকে প্রচণ্ড আদরও করত। কিন্তু একটু কিছু হলেই প্রচণ্ড রেগে যেত, চিত্কার-চেঁচামেচি করত। গত বছর রাগ করে নিজের বাচ্চাকেও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে।

জানা গেছে, ছোট ছোট তিন ছেলে-মেয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় হত্যার কারণ উল্লেখ করেননি মামলার বাদী নিহতদের বাবা আবু কালাম।


মন্তব্য