kalerkantho


নতুন ৭ গ্রহ আবিষ্কার

তবে কি মিলবে পৃথিবীর বাইরে বাসযোগ্য স্থান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তবে কি মিলবে পৃথিবীর বাইরে বাসযোগ্য স্থান

বিজ্ঞানীদের বাসনা ছিল পৃথিবীর প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহে মানুষ বাস করবে। সেখানে মিলবে প্রাণ টিকে থাকার উপাত্ত। ধারণা ছিল, মঙ্গলে আছে সাগর। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বাস্তবে লাল গ্রহে অভিযান চালিয়ে দেখলেন—সেখানে প্রাণ টিকে থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই। মঙ্গল গ্রহ ভয়ংকর শীতল, ঊষর, প্রাণহীন। অবশ্য নাসাসহ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা রয়েছে, এখন থেকে ১০ বছর পর মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর অভিযান শুরু হবে। তখন সেখানে কি মিলবে প্রাণের সন্ধান? পরের কথা পরে।

সম্প্রতি সৌরজগতের কাছাকাছি একটি লাল বামন তারাকে ঘিরে পৃথিবীর মতো সাতটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, এই প্রথম পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ দূরে ট্রাপিস্ট-১ নামের একটি তারাকে ঘিরে আমাদের সৌরজগতের বাইরে একসঙ্গে সাতটি গ্রহের সন্ধান মিলল। গ্রহগুলো পৃথিবীর আকৃতির এবং সেগুলোর পৃষ্ঠে পানি থাকতে পারে, এর আবহাওয়া হতে পারে প্রাণের জন্য সহায়ক। এর আগেও বিভিন্ন সময় যেসব গ্রহের সন্ধান পাওয়ার কথা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তা ছিল পৃথিবীর নাগালের বাইরে, প্রাণহীন।

নতুন আবিষ্কৃত সৌরমণ্ডলের একটি ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও প্রকাশ করেছে নাসা। এই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ছোট তারাকে মধ্যস্থানে রেখে প্রদক্ষিণ করছে সাতটি প্রায় সম-আয়তনের গ্রহ। ট্রাপিস্ট-১ নামের সেই তারাকে ঘিরে পাক খাচ্ছে ওই সাতটি গ্রহ। যাদের মধ্যে তিনটির তাপমাত্রা শূন্য থেকে ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবী থেকে মাত্র ৪০ আলোকবর্ষ দূরে হওয়ায় এ সৌরমণ্ডল নিয়ে গবেষণার অবকাশও রয়েছে প্রচুর। ট্রাপিস্ট-১ ‘ই’, ‘এফ’ ও ‘জি’ নামের তিনটি গ্রহ অবশ্য আবিষ্কৃত হয়েছিল গত বছর মে মাসেই। বাকি চারটির খোঁজ মিলেছে সম্প্রতি। এর মধ্যে ট্রাপিস্ট-১ ‘ই’, ‘এফ’ ও ‘জি’ নামের তিনটি গ্রহে ‘বাসযোগ্য আবহাওয়া ও মহাসাগরও থাকতে পারে।

‘বাসযোগ্য এলাকা’ বলতে কোনো নক্ষত্রের চারপাশে ঘূর্ণমান গ্রহগুলোর অবস্থানের এমন একটি এলাকা বোঝানো হয়, যে অবস্থানে থাকলে ওই গ্রহ বা গ্রহদের পৃষ্ঠে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা থাকে। আর তরল পানি থাকলে প্রাণ থাকারও জোরালো সম্ভাবনা থাকে।

বিজ্ঞানীরা আরো বলছেন, তাঁদের স্পিত্জার স্পেস দূরবীক্ষণ যন্ত্রে লাল বামন তারাটি (ট্রাপিস্ট) ধরা পড়েছে। তারাটি দেখতে সূর্য থেকে চার গুণ বড়, তবে ২০০ গুণ কম ঔজ্জ্বল্য।

গবেষণাপ্রধান বেলজিয়ামের লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ মাইকেল গিলন জানান, এবারই প্রথমবারের মতো একই তারা ঘিরে এ ধরনের এতগুলো গ্রহ পাওয়া গেছে। অতি শীতল ক্ষুদ্রাকৃতির ওই নক্ষত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ট্রাপিস্ট-১। এ নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তিত গ্রহগুলো শক্ত গঠনের। সেগুলো বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় নয় বরং শিলা দ্বারা গঠিত হতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমাউরি ট্রিউড বলেন, ‘আমি মনে করি, আর কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে পৌঁছেছি। আমি মনে করি, এর আগে কখনো এত কাছে আমরা পৃথিবীর মতো এতগুলো গ্রহের দেখা পাইনি। এটা একটি বিরল অভিজ্ঞতা। যেখানে প্রাণ আছে কি না, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করব। এখানে যদি কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকে এবং তারা জ্বালানি পুড়িয়ে আমাদের মতোই গ্রিনহাউস গ্যাস উদিগরণ করছে কি না, তা আমরা জানব। ’

নাসা বলছে, খুব শিগগির ওই গ্রহগুলোর রাসায়নিক উপাদান, বিভিন্ন গ্যাসের উপস্থিতি, ভূমির প্রকৃতি, আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হবে। সূত্র : সিএনএন ও এএফপি।


মন্তব্য