kalerkantho


খাদিজা আজ বাড়ি যাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খাদিজা আজ বাড়ি যাচ্ছেন

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের হামলায় আহত খাদিজা আক্তার নার্গিস এখন সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে যেতে প্রস্তুত। আজ সিলেটের উদ্দেশে তাঁরা রওনা হতে পারেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র (সিআরপি) থেকে ইতিমধ্যে তারা ছাড়পত্র নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআরপির চিকিৎসা টিম খাদিজার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে। এ সময় বাবা মাসুক মিয়া ও পরিবার সদস্যসহ খাদিজা নিজেও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজার পাশে থাকা বড় ভাই শাহীন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকের সহযোগিতার কারণেই খাদিজা বেঁচে আছে এবং এখন সে ভালো আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাভারে সিআরপির রেডওয়ে হলে গতকাল দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিউরোসার্জন ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলাল জানান, খাদিজার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পাঁচ-ছয় বছর সময় লাগবে। সিলেটে সিআরপির অন্য একটি সেন্টার আছে। সাভার সিআরপির সহযোগিতায় ওই সেন্টারের মাধ্যমে খাদিজাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে সিআরপির নির্বাহী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম, মেডিক্যাল সার্ভিসেস উইং প্রধান ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলাল, প্রশাসনপ্রধান মো. শহিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিআরপির মেডিক্যাল সার্ভিসেস উইং রেজিস্ট্রার ডা. ইসরাত জাহান ঊর্মি, ফিজিওথেরাপিস্ট সুলক্ষণা শ্যামা বিশ্বাস, ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট তাহমিনা সুলতানা, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট মানসুরা আকতারসহ চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পৃথকভাবে খাদিজার শারীরিক উন্নতির চিত্র তুলে ধরেন।

সিআরপির হেড অব মেডিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড কনসালট্যান্ট নিউরোসার্জন ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলাল বলেন, খাদিজা গত ৩০ নভেম্বর সিআরপিতে ভর্তি হন। মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিম তাঁকে পর্যবেক্ষণের পর আট সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। এই টিম খাদিজার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তিন মাসের চিকিৎসা পরিকল্পনা করে। থেরাপি ও কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় তাঁর সিটি স্ক্যানসহ পরীক্ষার জন্য স্থানীয় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিন মাসের চিকিৎসার পর খাদিজা এখন তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। খাদিজা এখন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত কাজেই প্রায় ১০০ শতাংশ স্বনির্ভর।

মেডিক্যাল সার্ভিসেস উইং রেজিস্ট্রার ডা. ইসরাত জাহান ঊর্মি বলেন, প্রাথমিকভাবে সিআরপিতে আসার পর খাদিজার কিছু পরীক্ষা করা হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে বাঁ পাশ নিষ্ক্রিয় ছিল। বর্তমানে তাঁর কোনো সার্জারির প্রয়োজন নেই। তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং সক্রিয়ভাবে নিজের সব কাজ করতে পারছেন। তাঁর কোনো খিঁচুনি নেই এবং যৎসামান্য কিছু ওষুধ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

সিআরপির কাউন্সেলর মো. আব্দুল জব্বার জানান, খাদিজার মানসিক সমস্যা নিরূপণ করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর মানসিক অবস্থা খুবই ভালো। তিনি বাস্তবকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রত্যয়ী।

চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করলেও খাদিজা যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন কিছুটা জড়তা লক্ষ্য করা যায়। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিলেন না। হাঁটায় তাঁর জড়তা এখনো রয়েছে। বাঁ হাতটিও তিনি ব্যবহার করতে পারেন না। তবে খাদিজা নিজেকে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ দাবি করে বলেন, যে সমস্যাগুলো আছে, তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থাকলে কাটিয়ে উঠতে পারব। লেখাপড়া অব্যাহত রেখে ব্যাংকার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন খাদিজা।

গত বছর ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা আক্তার নার্গিস ধারালো অস্ত্রের কোপে মারাত্মক জখম হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতাল এবং ঢাকার স্কায়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৫৫ দিন নিবিড় চিকিৎসার পর ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিশেষ চিকিৎসার জন্য সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে (সিআরপি) পাঠানো হয়।


মন্তব্য