kalerkantho


দিনমজুরকে পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ফেরত এলো লাশ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বন্যা মোড় থেকে গত বুধবার রাতে দিনমজুর ঠাণ্ডু মিয়াকে (৪৫) আটক করেছিল পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাঁর লাশ।

ঠাণ্ডু মিয়ার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বন্যা মোড়সংলগ্ন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দেওজান সলিল গ্রামে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি চৌহালী উপজেলার বন্যা মোড় এলাকায়।

ঠাণ্ডু মিয়ার শ্বশুর রায়হান আলী অভিযোগ করেন, ঠাণ্ডুর বিরুদ্ধে কোনো থানায় কোনো মামলা নেই। অথচ চৌহালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলাম অন্যায়ভাবে তাঁকে আটকের পর মারধর করে হত্যা করেছেন।

তবে এএসআই রবিউল ইসলাম দাবি করেন, থানার ওসি আকরাম হোসেনের নির্দেশে তিনি ঠাণ্ডু মিয়াকে আটক করেছিলেন। মোটরসাইকেলে আনার পথে লাফ দিয়ে পালানোর সময় তিনি মাথায় গুরুতর জখম হন। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধারের পর নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌহালী থানার ওসি আকরাম হোসেন গতকাল বিকেলে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিশিয়াল কাজে বুধবার সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে ছিলাম। আমি ঠাণ্ডুকে আটকের নির্দেশ দিইনি।

এএসআই রবিউল ইসলাম মিথ্যা বলেছে। ’

এএসআই রবিউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, এরই মধ্যে এএসআই রবিউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ঠাণ্ডু মিয়ার লাশ গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ঠাণ্ডুর মাথার পেছনের অংশ ভাঙা পাওয়া গেছে। আঘাতজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।  

ঠাণ্ডুর শ্বশুর রায়হান আলী অভিযোগ করেন, বুধবার সন্ধ্যার পর বন্যা মোড়ে ছিলেন ঠাণ্ডু মিয়া। ওই সময় এএসআই রবিউল ইসলাম একাই মোটরসাইকেলযোগে সাদা পোশাকে এসে ঠাণ্ডুকে হাতকড়া পরিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। আশপাশের লোকজন তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলেও তিনি বলেননি। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ঠাণ্ডুকে মোটরসাইকেলের পেছনে তুলে নিয়ে যান তিনি। রায়হান আলী জানান, এরপর খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ঠাণ্ডুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাঁরা ঠাণ্ডুর লাশ দেখতে পান। তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরার চিহ্ন ছিল।


মন্তব্য