kalerkantho


সবিশেষ

অঙ্ক সমস্যা, ডাকা হলো পুলিশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থী লেনা ড্রাপার। বাড়িতে বসে শিক্ষকের দেওয়া অঙ্ক কষছিল। কিন্তু অঙ্ক বলে কথা; জটিল মারপ্যাঁচ কিছুতেই তার মাথায় ঢুকছিল না। এমন সময় কী করবে না করবে ভাবতে ভাবতে তার মাথায় আসে অভিনব এক উপায়। সে ভালো করেই জানে, বাড়িতে কোনো বিপদে পড়লে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়। আর তার জন্য বিপদই বটে, জটিল অঙ্কের সমাধান কী?

লেনা ড্রাপার আর দেরি না করে তার এলাকার পুলিশের ফেসবুক পেজে সাহায্য চেয়ে বসে। অতিকর্তব্যপরায়ণ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ফেসবুকে লেনাকে দ্রুত উত্তর দেয়, ‘কী হয়েছে?’ লেনা ড্রাপার পুলিশকে জানায়, তার শিক্ষক বাড়িতে যে অঙ্ক কষতে দিয়েছেন তা সে কিছুতেই সমাধান করতে পারছে না। সে পুলিশের সহায়তা চায়। পুলিশকে সে লিখে, ‘স্কুল থেকে দেওয়া বাড়ির কাজ নিয়ে আমি মহাবিপদে পড়েছি। তোমরা কি আমাকে সাহায্য করতে পারো?’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পুলিশ খুব ভালো করে জানে, কেউ সমস্যায় পড়লে সাহায্য করতে হবে। তাই বলে অঙ্কের জট ছাড়াবে পুলিশ? কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা বিজে গ্রুবার তখনো জানেন না কী ধরনের অঙ্ক তার জন্য অপেক্ষা করছে।

তিনি লেনাকে তার অঙ্ক পাঠাতে বলেন। লেনা পুলিশের ফেসবুক পেজে লিখে, (৮ + ২৯).১৫। বেচারা পুলিশ কর্মকর্তা লেনার এই অঙ্কের সমাধান করে দেন। শিশু লেনা খুশি হয়ে ধন্যবাদ জানায়। এর পরপরই আরো একটি অঙ্ক, (৯০ + ২৭) + (২৯ + ১৫).২-এর সমাধান চেয়ে পাঠায় লেনা। এই অঙ্কটিও ওই পুলিশ কর্মকর্তা সমাধানের চেষ্টা চালান। তবে তার উত্তর নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। ওই শিশুসহ কয়েকজন মন্তব্য করে, দ্বিতীয় অঙ্কের সমাধান ভুল হয়েছে।  

এ ব্যাপারে বিজে গ্রুবার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমি যে সমাধান দিয়েছি, তা ঠিক আছে বলে অনেকটাই নিশ্চিত ছিলাম। তবে অনেকেই দ্বিতীয় সমস্যাটির সমাধান ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছে। অঙ্কের উত্তর না মেলাতে পারলেও পুলিশের প্রতি শিশুদের এ আস্থাকে অনেক বড় অর্জন বলে মনে করছে ওহাইও পুলিশ। ’

শিশু লেনার মা মলি ড্রাপার বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারিনি, লেনা তার অঙ্কের সমাধানের জন্য পুলিশের সাহায্য চাইবে। কিন্তু সে যখন আমাকে ফেসবুকের স্ক্রিনশট দেখায় তখন মনে হয়েছিল, এটা ছিল কেবল একটা মসকরা। কিন্তু এখন পুরো বিষয়টি আমার কাছে আনন্দদায়ক। ’ সূত্র : এবিসি নিউজ।  


মন্তব্য