kalerkantho


সব অবৈধই পর্যায়ক্রমে আওতায় পড়বেন

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নতুন আদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নতুন আদেশ

অবৈধ অভিবাসীদের তাড়াতে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত মঙ্গলবার ঘোষিত এই পরিকল্পনা অবৈধ এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর ভাগ্যকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। এই নির্দেশ ঘোষণার পর থেকেই অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবৈধদের বেশির ভাগই মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার নাগরিক। এদিকে তিনবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর মেক্সিকোর এক নাগরিক গতকাল সেতু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকারগোষ্ঠীগুলো। তাদের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে ফেরত পাঠানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর (ডিএইচএস) বিষয়ক মন্ত্রী জন কেলি গত মঙ্গলবার দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করেন। এ সম্পর্কে কেলি বলেন, সরকারি সম্পদকে গ্রাস করা এই সংকটের সমাধান টানার জন্য এ আদেশ জরুরি ছিল। একটি প্রজ্ঞাপনে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ এত বেড়েছে যে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতি মুকাবিলায় সরকারি সম্পদ ব্যবহারের হারও বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এরই মধ্যে এই আদেশ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিনেটে পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান সিনেটর বেন কার্ডিন বলেন, এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও গণনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল দ ব্লাসিও বলেন, তিনি তার পুলিশ বাহিনীকে কোনো অবস্থায়ই ইমিগ্রেশন এজেন্টের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করার অনুমোদন দেবেন না। একই সঙ্গে শহরের কারাগারগুলোকেও তিনি অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেবেন না। এতে করে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর বলে নিউ ইয়র্কের যে বিশেষত্ব তাও ব্যাহত হবে।     

নতুন নির্দেশে অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার আওতা যেমন প্রশস্ত হবে, তেমনি এ প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে। কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর সবাই এর আওতায় পড়তে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বহিষ্কারের জন্য প্রথম লক্ষ্যবস্তু হবে অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকা অবৈধ অভিবাসীরা। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ বা দোকান থেকে জিনিস চুরি করার মতো তুলনামূলকভাবে লঘু অপরাধে দণ্ডিত, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত ব্যক্তিরাও পড়বে। বলা হচ্ছে, এতে করে এজেন্টরা যে অবৈধ অভিবাসীকেই পাবে, তাকেই গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা পাবে। একই সঙ্গে দ্রুততর সময়ের মধ্যে দেশ থেকে বের করে দিতে পারবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এবং গ্রিন কার্ডধারীরা যে প্রাইভেসি রাইটস বা ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়াবলি গোপনীয়তার অধিকার পায়, অবৈধ অভিবাসীরা তা পাবে না।

বারাক ওবামার আমলে শুধু গুরুতর অপরাধ করা এবং সামপ্রতিক সময়ে সীমান্তে ধরা পড়া লোকজনের মধ্যেই বহিষ্কারের আদেশ সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের এ আদেশ সেই নীতির একেবারে বিপরীত। তবে ওবামার সময় শিশু বয়সে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন পদক্ষেপ কার্যকর করতে মার্কিন ডিএইচএস অতিরিক্ত ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা করছে। এই দপ্তর বলেছে, ‘খুবই সীমিতসংখ্যক ব্যতিক্রম ছাড়া ডিএইচএস ওই পদক্ষেপের সম্ভাব্য বাস্তবায়ন থেকে অভিবাসীদের কোনো শ্রেণি বা ক্যাটাগরিকে বাদ দেবে না। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী সবাই এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় পড়তে পারে। এর মধ্যে থাকবে বহিষ্কারের ব্যবস্থাও। ’

মেক্সিকোর অভিবাসীর আত্মহত্যা : একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে অল্প কিছু জিনিস দিয়ে মেক্সিকোর গুয়াদেলুপে অলিভাস ভালেন্সিয়াকে (৪৪) গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই নিয়ে তৃতীয়বার ভ্যালেন্সিয়াকে বের করে দেওয়া হল। তিনি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছিলেন। গত মঙ্গলবার তাঁকে বের করে দেওয়ার মাত্র আধাঘণ্টার মাথায় একটি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন অভিবাসন আদেশ জারি করেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য