kalerkantho


পুঠিয়ায় চুরির অপবাদ

চুল কেটে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চুল কেটে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন

রাজশাহীর পুঠিয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার মাথার চুল কেটে নেওয়া ও মুখে চুনকালি মেখে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নাম নাজমুল হক (১২)। সে বারোইপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয় ওই শিশুটিকে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুঠিয়া সদরের খান ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুঠিয়া সদরের খান ফিলিং স্টেশনে দাঁড় করে রাখা ‘বিপি পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে সিডি ডিস্ক চুরি হয়ে যায়। ভোর ৬টার দিকের এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই বাসের সুপারভাইজারসহ চালক এবং তার সহযোগীরা কিশোর নাজমুলকে আটক করে। এরপর তাকে ফিলিং স্টেশনে দাঁড় করে রাখা একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা নাজমুলকে বেঁধে রাখা হয়। শেষে সকাল ১০টার দিকে মাথার চুল কেটে এবং মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয় নাজমুলের।

এরপর গাড়ির সুপারভাইজার নুরুল ইসলাম, চালক আক্কেল হোসেন, সহকারী আলমগীর হোসেন, জুলমত আলী ও মিন্টুসহ পাম্পের দুই কর্মচারী মিলে পেটাতে থাকে নাজমুলকে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে নাজমুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়।  

এ ঘটনার পরে খবর পেয়ে নাজমুল হককে তার বাবা এসে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে বিকেলে ছেলের বিচার দাবিতে নাজমুলকে নিয়ে পুঠিয়া থানায় যান বাবা হাফিজুর। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গাড়ির চালক নুরুল ইসলামকে আটক করে।

তবে খান ফিলিং স্টেশনের মালিক আল মামুন খান বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে বিপি পরিবহনের চালকসহ অন্য কর্মচারীরাই ছেলেটিকে মেরেছে বলে শুনেছি। ’

জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ওই গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।


মন্তব্য