kalerkantho


বগুড়ার সেই রোগীর মৃত্যু

মারধরের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মারধরের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ মন্ত্রীর

চিকিৎসকদের হাতে মার খেয়েও বাবাকে সুস্থ করে বাসায় নিতে পারলেন না রউফ। অবশেষে মারা গেলেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর বাবা আলাউদ্দিন সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মারা যান।

আব্দুর রউফ সরকার অভিযোগ করে বলেছেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাঁর চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি করা হয়নি।

এর আগে রবিবার সকালে ওই হাসপাতালে আব্দুর রউফ সরকার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মারধরের শিকার হন। মারধর ও কান ধরিয়ে উঠবোস করানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের সমালোচনা করা হয়।

ওই ঘটনার পর উল্টো শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

কর্মবিরতি চলাকালে মানববন্ধনে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড নিয়েও সমালোচনা হয়। ওই প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘তুমি যদি মানুষ হতে, হতাম ডাক্তার মশাই।

তুমি যে ভাই পশু বনের, আমি যে তাই কসাই। ’ হবু চিকিৎসকদের এই আচরণে গণমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে রোগীদের ভোগান্তিতে রেখে, জিম্মি করে যারা অহেতুক হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এ নির্দেশনা অনুযায়ী দোষীদের শিক্ষানবিশি বাতিল করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, আলাউদ্দিন সরকার (৬০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শয্যা না পেয়ে তাঁর ঠাঁই হয় মেডিসিন বিভাগের ৪৭৫ নম্বর কক্ষের মেঝেতে। বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ খুঁজতে গিয়ে পরদিন তাঁর ছেলে আব্দুর রউফ শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে আপা বলে সম্বোধন করার কারণে মারধরের শিকার হন। তাঁকে ১০০ বার কান ধরে উঠবোস করতে বাধ্য করেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। রউফের সমর্থনে এগিয়ে যাওয়া তাঁর পরিবারের দুই নারীকেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘৃণা ও প্রতিবাদের মুখে পড়েন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা উল্টো বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতিতে যান। তবে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে সোমবার কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন তাঁরা। এ অবস্থায় গতকাল আলাউদ্দিন মারা যান। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কোনাগাতি গ্রামে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, ভোরে আলাউদ্দিন মারা যাওয়ার পর তাঁর স্বজনরা লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মাসুদ আহসান বলেন, ‘আলাউদ্দিনকে সুস্থ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি বোর্ডও গঠন করেছিলাম। আমি নিজে তদারকি করেছি। ’


মন্তব্য