kalerkantho


জেনারেল ম্যাকমাস্টার ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জেনারেল ম্যাকমাস্টার ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা

এবার নিজের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারবার্ট রেমন্ড ম্যাকমাস্টারকে বেছে নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ম্যাকমাস্টারের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এইচআর ম্যাকমাস্টার নামে বেশি পরিচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা সামরিক গবেষক হিসেবেও স্বীকৃত।

ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘সামরিক বাহিনীতে সবাই তাঁকে খুব শ্রদ্ধা করে এবং তাঁকে আমাদের মাঝে পেয়ে খুব সম্মানিত বোধ করছি। তিনি অত্যন্ত মেধাবী এবং তাঁর অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। ’ একই উৎসাহ ম্যাকমাস্টারের বক্তব্যেও পাওয়া গেছে। নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘অব্যাহতভাবে জাতির সেবা করার সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করছি। ’

ম্যাকমাস্টার পদত্যাগকারী হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ফ্লিন রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় পদ্যতাগ করতে বাধ্য হন। প্রেসিডেন্টের এই নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের অনুমোদন লাগবে না। তবে ফ্লিনের পদত্যাগের পর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ ছিল আরেক সামরিক কর্মকর্তা ভাইস অ্যাডমিরাল রবার্ট হাওয়ার্ড।

কিন্তু ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি তিনি।

নতুন নিয়োগ পাওয়া ম্যাকমাস্টারকে দক্ষ সামরিক গবেষক ও যুদ্ধকৌশলবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি স্পষ্টভাষী হিসেবেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবে প্রেসিডেন্টকে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম জ্যেষ্ঠ পদ।

ম্যাকমাস্টারের মতো স্পষ্টভাষী সামরিক কর্মকর্তাকে ট্রাম্প নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেওয়ায় অনেক বিশ্লেষক বিস্মিত হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ম্যাকমাস্টার সমালোচনা সহ্য না করা হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নেবেন তা দেখার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। মস্কোর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। বরং রাশিয়ার কিছু সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কী হতে পারে, সম্প্রতি সে বিষয়টি পর্যালোচনার দায়িত্ব ম্যাকমাস্টারকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনা ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিষয়ে পিএইচডি করেছেন।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ চলছেই : এদিকে ট্রাম্পকে ‘নট মাই প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে গত সোমবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলেছে। এর মধ্যে শুধু নিউ ইয়র্কেই অন্তত ১০ হাজার লোক জড়ো হয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখায়। এরই মধ্যে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির এক মাস পূর্ণ হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ছাড়াও সোমবার আটলান্টা, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ও অন্যান্য শহরেও এ বিক্ষোভ হয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, এপি।


মন্তব্য