kalerkantho


অবসরের আগেই বাংলায় রায় লেখা নিশ্চিত করার আশা প্রধান বিচারপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অবসরের আগেই বাংলায় রায় লেখা নিশ্চিত করার আশা প্রধান বিচারপতির

ফাইল ছবি

উচ্চ আদালতের রায় এখনো বাংলায় লেখা নিশ্চিত করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তবে অবসরে যাওয়ার আগেই বাংলায় রায় লেখা প্রচলন করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলা ভাষা দেশের প্রত্যেক অফিসে চালু হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে সব রায় বাংলায় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য আমি দুঃখিত। প্রধান বিচারপতি হিসেবে এটা আমার অপারগতা। তবে আমরা বাংলায় রায় দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট বিভাগে বেশ কয়েকজন বিচারক সুন্দরভাবে বাংলা ভাষায় রায় লিখছেন। ’ 

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা কিছুটা কঠিন। কারণ রায়ে অন্যান্য দেশের যেসব রেফারেন্স ব্যবহার করা হয় তা ইংরেজিতে লেখা।

এ কারণে এমন একটি ডিভাইস (যন্ত্র) খুঁজছি, যাতে মুখে যা বললাম সঙ্গে সঙ্গে তা কম্পিউটারে প্রিন্ট হয়ে যায়, এ ধরনের ডিভাইস খোঁজা হচ্ছে। এটা পাওয়া গেলে বাংলায় রায় দিতে পারব। ’

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘আমি কোনো দিন ব্যর্থ হইনি। এ ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পারছি না। তবে অবসরে যাওয়ার আগেই বাংলায় রায় লেখা প্রচলন করতে পারব বলে আশা করি। ’

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ১৯৮৭ সালে আইন (বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭) করা হলেও আদালতের বিচারকাজে এখনো তা কার্যকর করা যায়নি। দেশের আদালতগুলোতে বিশেষ করে উচ্চ আদালতে মামলার শুনানি ও আদেশ, রায় লেখা হয় ইংরেজিতে। বাংলায় রায় না লেখা সম্পর্কে উচ্চ আদালতের যুক্তি, দেশি-বিদেশি মামলার নজির ও অধিকাংশ আইনের বই ইংরেজিতে লেখা। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বিধিমালায় উচ্চ আদালতের ভাষা হিসেবে ইংরেজির কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে আদালতসহ সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে ২০১১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই দুটি ঘোষণাপত্র জারি করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছিল আইন কমিশন। সেই সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তবে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ছাড়াও বিচারপতি এম আমীরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী এবাদুল হক কিছু রায় বাংলায় দিয়ে গেছেন। আর হাইকোর্ট বিভাগের বর্তমান বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন বেশ কিছু রায় বাংলায় দিয়েছেন।


মন্তব্য