kalerkantho


সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব আজ শুরু

চলবে ১০ দিন

সিলেট অফিস   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব আজ শুরু

‘মানবিক সাধনায় বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব’—এই স্লোগান সামনে রেখে সিলেটে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী ‘বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব’। এত বড় সাংস্কৃতিক উৎসব এর আগে সিলেটে হয়নি। তাই উৎসব ঘিরে জেলার সব জায়গায় অন্য রকম এক আবহের সৃষ্টি হয়েছে। ইনডেক্স গ্রুপ নিবেদিত এ উৎসবের আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে জাতীয় অধ্যাপক জ্ঞানতাপস অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতির প্রতি।

নগরের মাছিমপুরে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আজ সন্ধ্যা থেকে উৎসব শুরু হলেও রাত ৮টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ইনডেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিয়া তাজীন এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

১০ দিনব্যাপী এই উৎসব কয়েকটি মঞ্চ ও চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবস্থলের চত্বর ও মঞ্চগুলোর নামকরণও করা হয়েছে সিলেটের কয়েকজন মহান ব্যক্তির নামে। উৎসবের প্রধান মঞ্চটির নাম ‘হাছন রাজা মঞ্চ’ রাখা হয়েছে।

বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী মঞ্চের নাম রাখা হয়েছে ‘বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম মঞ্চ’। সাহিত্যসভা, মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য যে মঞ্চটি থাকছে তার নাম রাখা হয়েছে ‘সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চ’। কারুশিল্প প্রদর্শনীর চত্বরটি লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের অগ্রপুরুষ ও ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আইসিএস গুরুসদয় দত্তের নামে নামকরণ করা হয়েছে। স্থাপত্য প্রদর্শনী ও স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণের জন্য নির্মিত তোরণটিকে ‘কুশিয়ারা কলোনেড’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর্ট ক্যাম্পের বেদিটিকে ‘রাধারমণ দত্ত বেদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উৎসবের প্রধান মঞ্চ হাছন রাজা মঞ্চে আজ থেকে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট থেকে (শেষ দুই দিন ২ ও ৩ মার্চ বিকেল ৪টা থেকে) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। চলবে গভীর রাত পর্যন্ত। আগামী ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলন। সাহিত্য সম্মেলন বাদে অন্যান্য দিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে এই মঞ্চে চলবে বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এ ছাড়া ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং ২ ও ৩ মার্চ প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মঞ্চনাটক পরিবেশিত হবে। গুরুসদয় দত্ত চত্বরে বসবে ১০টি জেলার কারুপণ্য নিয়ে কারুমেলা। থাকবে বেঙ্গল প্যাভিলিয়নও। রাধারমণ দত্ত বেদিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় চলবে আর্ট ক্যাম্প।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) শর্মিষ্ঠা রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, এই উৎসবে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতি মহসিন, চন্দনা মজুমদার, জলের গান, কুদ্দুস বয়াতিসহ বাংলাদেশের ৩৮৩ জন সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, চিত্রকর, নাট্যকুশলী, লেখক ও কবি অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারতীয় শিল্পী হৈমন্তী শুক্লা, শ্রীকান্ত আচার্য্য, মনোময় ভট্টাচার্য্য, জয়তী চক্রবর্তী ও পার্বতী বাউলকে।

বিশিষ্ট চিত্রকর রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, শহিদ কবির, রোকেয়া সুলতানা, জামাল আহমেদ, শিশির ভট্টাচার্য্য, তৈয়বা লিপিসহ ২৭ জন শিল্পী উৎসব চলাকালীন ‘সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্পে’ অংশগ্রহণ করবেন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, শাহীন আখতার ও হরিশংকর জলদাস, প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সনত্কুমার সাহা, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও শামসুজ্জামান খান, কবি আনিসুল হক, রুবি রহমান, রবিউল হুসাইন, তারেক সুজাতসহ বাংলাদেশের মোট ৫০ জন কবি এবং লেখক কালি ও কলম সাহিত্যসভায় অংশ নেবেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, প্রথিতযশা মঞ্চ-অভিনেতা ও নির্দেশক শাঁওলি মিত্রসহ ভারতের ২৩ জন প্রাবন্ধিক, কবি ও সাহিত্যিক এবং নেপালের দুজন বিশিষ্ট লেখক সাহিত্যসভায় যোগ দেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

উৎসবে বাংলাদেশের ১০টি জেলার কারুশিল্প নিয়ে থাকবে কারুমেলা। চলচ্চিত্র উৎসবে জাহিদুর রহিম অঞ্জনের ‘মেঘমল্লার’, মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন’, তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’, ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’, নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’, রুবাইয়াৎ হোসেনের ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ ও ছোটদের ছবিসহ মোট ১৪টি ছায়াছবি নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হবে। চারটি নন্দিত মঞ্চনাটক সুবচনের ‘মহাজনের নাও’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমেনা সুন্দরী’, লোকনাট্যদলের ‘কঞ্জুস’ এবং মণিপুরী থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ উৎসবে মঞ্চস্থ করা হবে। উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থাপিত হবে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। থাকবে বইমেলা।

সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর, ধামাইল, সুফি সাধনসংগীত, মণিপুরি ইত্যাদি আঞ্চলিক গান ও নাচ উৎসবের বিভিন্ন দিন মঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। সিলেটের ঐতিহ্য ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকবে স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণ (ডিজিটাল ডিসপ্লে)। সিলেট শহরকে আরো পরিবেশ ও মানববান্ধব করার বিভিন্ন প্রয়াস ও চিন্তা সমন্বয় করে উপস্থাপন করা হবে স্থাপত্য প্রদর্শনী।

উৎসবের তৃতীয় দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক এবং উৎসবের সমাপনী দিনে ৩ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।


মন্তব্য