kalerkantho


সৎ খোঁজার পথ খোঁজা

হানিফ সংকেত

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সৎ খোঁজার পথ খোঁজা

বাউল শিরোমণি লালন সাঁইজি তাঁর অনেক গানেই মানুষ চেনার কথা বলেছেন। সেটা তাঁর আধ্যাত্মিক চিন্তার কথা। কিন্তু এই বস্তুজগতে মানুষ চেনা বস্তুতই কঠিন। ঠিক-বেঠিকের ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে দিক হারিয়ে ফেলে অনেকেই। চিন্তাহীনতা-চিন্তার দীনতা-চিন্তার ক্ষীণতা বা উদাসীনতা আমাদের চিন্তিত করে ফেলে। সুচিন্তাই হয়ে যায় ছিনতাই। আমাদের চিন্তার শেষ নেই। খাওয়ার চিন্তা, পাওয়ার চিন্তা, থাকার চিন্তা, শিক্ষার চিন্তা, ভর্তিচিন্তা, কর্মচিন্তা, জলজট, যানজট, সেশনজটসহ নানা চিন্তা ছাড়াও স্বার্থচিন্তা তো রয়েছেই। এক মুখে দুই কথা বলার এবং স্বার্থ নিয়ে চলার লোকের অভাব নেই এই সমাজে। সে কারণে এদের বিবেক-বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। কারণ দেখার চোখই চোখ নয়, আসল চোখ হলো বিবেকের।

আর এই সব চিন্তা-ভাবনা নিয়েই জীবন এগিয়ে চলছে কখনো দ্রুত লয়ে, কখনো বা ধীর লয়ে।

অনুভূতি ও বিবেককে সজাগ রেখে চললে এই চিন্তাযুক্ত নাগরিক সমাজে বারবার হোঁচট খেতে হয়। এর কারণ আমাদের চারদিকে দৃশ্যমান সব অসংগতি, যার অভিজ্ঞতা কখনো হাস্যরসে, কখনো বা তিক্ততায় ভরিয়ে তোলে। হাস্যরস উত্তম, তবে কোনো গুরুতর বিষয় নিয়ে যখন একের পর এক হাস্যকর ঘটনা ঘটতে থাকে, তখন সেই হাসিটা হজম করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের রাজনীতি, সমাজনীতি এবং আদর্শবাদের নামে সৃষ্ট কিছু উত্কট বিনোদনের অভিজ্ঞতা এবং এর বিপরীতে প্রচারবিমুখ কিছু নিবেদিতপ্রাণ মানুষের নিরলস কাজ করে যাওয়া দেখার মুগ্ধতা নিয়ে সময়ের প্রয়োজনে লেখা এ বইয়ের বিভিন্ন গল্প। তাই বইগুলোকে আমার সেরা বই বলাটা একটু কঠিনই বৈকি। কারণ এখানে প্রধান বিষয় হলো সময় এবং সেই সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা, যা নিয়ে আমি লেখার তাগিদ অনুভব করেছি তা-ই লিখেছি। ২০১৬ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হওয়া এমনই কিছু লেখার সংকলন নিয়ে বেরিয়েছে ‘সৎ খোঁজার পথ খোঁজা’।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘চশমা বাগিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করে গোপনতত্ত্বের ঝুঁটি ধরে টানাটানি করার চেয়ে প্রকাশ্য রসটুকু ভোগ করে যাওয়াই ভাল। ’ সুতরাং তত্ত্ব নয়, ‘সৎ খোঁজার পথ খোঁজা’র প্রকাশ্য রসটুকু যদি আপনাদের কিছুটা হলেও আনন্দ দিতে পারে তাহলেই আমার শ্রম সার্থক হবে। আমি কৃতজ্ঞ নবী ভাইয়ের (রফিকুন নবী) কাছে, শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমার এ বইটির প্রচ্ছদ করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত আমার আরো কয়েকটি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন নবী ভাই।

দ্বিতীয় বইটি আমার ভ্রমণবিষয়ক প্রথম বই। বিশ্বের বহু দেশ আমি ঘুরেছি। সময়ে-অসময়ে ঘুরেছি। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ঘুরেছি। ভুলত্রুটি ক্ষমা করে ‘বিস্ময়ের বিশ্ব পথে’ যদি আপনাদের কিছুটা হলেও আনন্দ দিতে পারে, আমিও আনন্দিত হব। দুটি বই-ই প্রকাশিত হয়েছে অনন্যা প্রকাশনী থেকে।


মন্তব্য