kalerkantho


বিচারক নিয়োগ ও শৃঙ্খলা

রিট আবেদনের ওপর আদেশ ২৬ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রিট আবেদনের ওপর আদেশ ২৬ ফেব্রুয়ারি

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। গত বছর ২২ নভেম্বর এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হলেও আদালত তখন আদেশের বিষয়টি মুলতবি রেখেছিলেন।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, আদালত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য রেখেছেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, আদেশের জন্য ওই দিন কার্যতালিকায় থাকবে। তবে সেদিন এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত শুনানি হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত সংবিধানের ৯৫(১) ও ৯৫(২)(খ) অনুচ্ছেদ বাতিল করে প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত বছর ৩ নভেম্বর এ রিট আবেদন করা হয়। আবেদনে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা তথা নিম্ন আদালতের বিচারকদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে এ বিষয়ে ১৯৭২ সালের বিধান পুনঃপ্রবর্তনের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫(১), ৯৫(২)(খ) ও ১১৬ অনুচ্ছেদ মাসদার হোসেন মামলার রায়ে দেওয়া নির্দেশনার সঙ্গে (সংবিধানের ২২ ও ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে) সাংঘর্ষিক।

এ কারণে এসব অনুচ্ছেদ অবৈধ।

রিট আবেদনে আরো বলা হয়, সংবিধানের ৯৫(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য আইন করার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। আইন ছাড়াই ৪৫ বছর ধরে বিচারক নিয়োগ করা হচ্ছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদেও এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব এককভাবে রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতির এ ক্ষমতা প্রয়োগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিধান সংযুক্ত করা হয়। পরে মুন সিনেমা হল-সংক্রান্ত মামলার রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা হয়। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী করা হলেও ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান অপরিবর্তিত রেখে দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৩১ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্করণ দিবস উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক বাণীতে সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে ১৯৭২ সালের ১১৬ অনুচ্ছেদ প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পরদিন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।


মন্তব্য