kalerkantho


বাংলাদেশ রেলওয়ে

পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল ভেঙে চারটি হচ্ছে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল ভেঙে চারটি হচ্ছে

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ৯০০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। দীর্ঘদিন পর বর্তমানে দুটি অঞ্চলকে চারটি অঞ্চল ও পরিচালন বিভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

এর মধ্য দিয়ে বাড়বে অনেক জনবল। নতুন দুটি অঞ্চল ও পরিচালন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করার ভৌগোলিক সীমা (স্কেচ ম্যাপসহ), জনবল, আর্থিক সংশ্লেষ, অঞ্চল ও বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংবলিত প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

যেকোনো সময় রেলমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন নতুন দুটিসহ চারটি অঞ্চল ও বিভাগের নামসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো। এরপর চলতি বছরের মধ্যে নতুন অঞ্চল ও বিভাগের অধীন রেললাইন পরিচালনার কাজ শুরু হবে বলে জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য।

দুটি অঞ্চলকে ভেঙে চার অঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য গতকাল সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেলপথ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন বগি, ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। আরো আমদানি করা হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রেলওয়ের জন্য যে উন্নয়নকাজ করেছেন তা আগে কখনো হয়নি।

নতুন অঞ্চলে আমাদেরও আগ্রহ ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী এতে অনুমোদন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন রেলের সেবা থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়। ’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, “রেলওয়ের এত উন্নয়নের পরও রেল নিয়ে সাধারণ মানুষের একটা ‘না’-বোধক ধারণা আছে, সেই না ধারণাকে ‘হ্যাঁ’ ধারণায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এ কারণেই এবং মানুষ যাতে আরো অনেক বেশি সেবা পায় সে কারণেই চারটি অঞ্চল ভাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি কয়েক দিন আগে রেলমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তিনি এই ব্যাপারে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করবেন। ”

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান দুটি অঞ্চলকে ভেঙে চারটি এবং চারটি বিভাগকে আট বিভাগে গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দিয়েছি। ’

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি তা করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। দুটি বেড়ে এখন চারটি অঞ্চল হবে। ’

কমিটির সদস্য পূর্বাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবদুল হাই বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলে বর্তমান ৪০ হাজার জনবল থাকার কথা থাকলেও সেখানে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জনবল সংকট আছে। ’

চারটি অঞ্চলের জন্য কত জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমান অনুমোদিত জনবল থেকে বাড়বে। ’ তবে কত তা মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন বলে তিনি জানান।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-সিলেট পরিচালন বিভাগ নিয়ে পূর্বাঞ্চল, ঢাকা-ময়মনসিংহ নিয়ে নতুনভাবে গঠিত হবে উত্তরাঞ্চল, পাকশী ও লালমনিরহাট নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল এবং রাজবাড়ী ও খুলনা বিভাগ নিয়ে নতুনভাবে গঠিত হবে দক্ষিণাঞ্চল। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর থাকবে চট্টগ্রামের সিআরবি, উত্তরাঞ্চলের সদর দপ্তর ময়মনসিংহ, পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তর রাজশাহী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সদর দপ্তর হবে ফরিদপুর।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দুটি অঞ্চল চারটি বিভাগের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা ও সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। নতুন দুটি অঞ্চল সৃষ্টি হলে বাড়বে চারটি বিভাগ। নতুন বিভাগগুলো হলো সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী ও খুলনা। বর্তমানে চট্টগ্রাম, ঢাকা, পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে দুই অঞ্চল।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান দুটি অঞ্চল চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করার অনুশাসন প্রদান করেন। ওই অনুশাসন বাস্তবায়নের নিমিত্ত রেলপথ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান দুটি অঞ্চলকে নিম্নোক্তভাবে চারটি অঞ্চল ও পরিচালন বিভাগে বিভক্ত করার সুপারিশ প্রদান করা হয়। সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটি গত ১২ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব দাখিল করে।

কমিটির একজন সদস্য জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে জনবল ৪০ হাজার ২৬৪ জনের অনুমোদন রয়েছে। নতুন দুটি অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত আরো ১৫ হাজার জনবল নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।


মন্তব্য