kalerkantho


নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

৩০ বছরে কেউ ব্যক্তিগত লাভের প্রস্তাব দেয়নি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৩০ বছরে কেউ ব্যক্তিগত লাভের প্রস্তাব দেয়নি

বের্গে ব্রেন্দা

উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশ হতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) অনুকূল পরিবেশের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর তাগিদ দিয়েছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বের্গে ব্রেন্দা। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার একটি হোটেলে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর দেশের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানও তুলে ধরেন।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা না থাকলে নরওয়ে কখনো আজকের অবস্থায় থাকত না। ২৬ বছর বয়সী আমার নিজের শহরের ডেপুটি মেয়র হিসেবে আমি রাজনীতি শুরু করেছি। তখন এ-সংক্রান্ত অনেক দায়দায়িত্ব ছিল। এরপর আমি সংসদ সদস্য, মন্ত্রী—এসব হয়েছি। ’

বের্গে ব্রেন্দা বলেন, ‘৩০ বছর; এত বছর ধরে আমি রাজনীতিতে আছি। গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হয়েছে। কিন্তু এত বছরে একবারের জন্যও আমাকে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার বা লাভবান হওয়ার কোনো প্রস্তাব দেয়নি। ৩০ বছর!’

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এমনটি ঘটত আমি তত্ক্ষণাত ফোন তুলতাম এবং পুলিশ ডাকতাম। আমার মনে হয়, আমাদের সর্বোচ্চ মাথাপিছু জিডিপির এটিও একটি কারণ।

আমাদের দেশে খুব কমই দুর্নীতি আছে। আমরা অনেক স্বচ্ছ দেশ এবং আমাদের আদালতগুলোও অত্যন্ত স্বাধীন। ’

বের্গে ব্রেন্দা বলেন, ‘আমার স্ত্রী একজন বিচারক। অনেক বছর ধরেই তিনি অসলোতে আছেন। তাঁর পরিস্থিতিও আমার মতোই। তাঁর চাকরিতেও তিনি কখনোই লাভবান হওয়ার বিনিময়ে কাউকে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব পাননি। আমার মনে হয়, এটি একটি অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। ’

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের আরো অগ্রগতির সুযোগ আছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে থাকা উচিত।

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে বের্গে ব্রেন্দা বলেন, ‘সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার তার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রেখেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও বাংলাদেশ এখনো উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের নিজস্ব অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এটি বলা খুব সহজ যে ভালো স্কুল, ভালো হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আগে আমরা কাউকে সহযোগিতা করব না। ’

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আপনারা মিয়ানমার থেকে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছেন। বাংলাদেশকে এর জন্য বাহাবা পাওয়া উচিত। আমার মনে হয়, রাখাইন রাজ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো চাপ সৃষ্টি করা উচিত। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের সর্বোচ্চ ভালো আচরণ করতে হবে। ’

বের্গে ব্রেন্দা আরো বলেন, ‘আপনারা পুরো অঞ্চলের দিকে তাকান। আমি জানি, এ দেশে হিন্দুরাও আছে; ভারতে অনেক মুসলমান আছে। তারা সেখানে সংখ্যালঘু। সংখ্যালঘুদের প্রতিও যদি সম্মানজনক আচরণ এবং সমাজে সঙ্গে নিয়ে চলা না যায় তাহলে প্রমাণ হবে সেখানে মৌলিক মূল্যবোধের ঘাটতি আছে। ’

শরণার্থীদের অন্যত্র স্থানান্তর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেন—মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হবে এবং তারা সেখানে নিরাপদে থাকবে। তবে এর আগে যত দিন তারা এ দেশে আছে তাদের চাহিদাগুলো পূরণ করা এবং অন্যত্র স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ও জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কারের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ একটি কমিটি পুরস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে নরওয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বোঝা উচিত। এখনো দেশটির সংসদের ২৫ শতাংশ আসন সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। ওই দেশটি এখনো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নয়।


মন্তব্য