kalerkantho


নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মিরসরাইয়ে

বরাদ্দ হচ্ছে ১০০ একর জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সফল নারী উদ্যোক্তারা বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁদের জন্য বড় পরিসরে জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়ার। নানা জটিলতায় বিসিকসহ অন্য কোথাও সেই ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে তাঁদের দাবি পূরণ হচ্ছে। দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে আলাদাভাবে ১০০ একর জমি পেতে যাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) থেকে এমন নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের প্রতিনিধিরা গতকাল সোমবার বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আশ্বাস দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের গবেষণা সংস্থা বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাদের মিরসরাইতে ১০০ একর জমি দেওয়ার সম্মতি দিয়েছেন। এ নিয়ে শিগগিরই দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে। ’ তিনি বলেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরে অনেক নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন যাঁরা তাঁদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চান। কিন্তু জমির অভাবে করতে পারছেন না। মিরসরাইতে জমি পেলে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার পরিসর বাড়বে।

তাতে দেশের অর্থনীতিরও প্রবৃদ্ধি ঘটবে। ’

বেজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধনের সময় নারীদের জন্য আলাদা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকেই বেজা মিরসরাইতে নারীদের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় নীতিগত সম্মত হয়েছে।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, নারীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতি বাস্তবায়নে বেজা নারীদের জন্য আলাদা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে দিতে চায়। মিরসরাই দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সেখানে যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো। তদুপরি বন্দরও কাছে। তাই নারীদের জন্য মিরসরাইতে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখানেই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ একর জমি দেওয়া হবে। এ নিয়ে শিগগিরই সমঝোতা স্মারক সই হবে।

গতকালের বৈঠকে বেজার নির্বাহী সদস্য আবদুস সামাদ, এমদাদুল হক, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিনা কাদের, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য পরিষেবা সুবিধা নিশ্চিত করা। জবাবে বেজার পক্ষ থেকে এসব সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সত্যিকার নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

জানতে চাইলে সেলিনা কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে। আগামী প্রজন্ম যাতে ব্যবসা করার সুন্দর পরিবেশ পায়, আমরা সেই ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। নতুন প্রজন্ম দেশের অর্থনীতিকে আরো এগিয়ে নেবে। আমরা ব্যবসা করতে গিয়ে দেখেছি, অনেকে জায়গার অভাবে কিছু করতে পারে না। মিরসরাইতে জমি পেলে তারা সেখানে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ পাবে। ’ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কী ধরনের শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেউ বিদেশে পণ্য রপ্তানি করবে। কেউ লেদার ব্যবসা আবার কেউ কেউ প্রিন্টিং ও হস্তশিল্প গড়ে তুলবে। ’ 

বেজার কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত যে ৭৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে ৩০ হাজার একর জমি রয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক উদ্যোক্তা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন।


মন্তব্য