kalerkantho


মাংসের দাম বাড়িয়ে দিল ব্যবসায়ীরা

এম সায়েম টিপু   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মাংসের দাম বাড়িয়ে দিল ব্যবসায়ীরা

মাংসের বাজারে এক সপ্তাহ ধর্মঘট চলায় চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ধর্মঘট শেষে এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। ধর্মঘটের আগে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস পাওয়া গেলেও এখন একই মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ টাকার কাছাকাছি দামে।

ধর্মঘটের পর কেজিপ্রতি মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। গতকাল সোমবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু মাংসের দোকানে গরুর মাংসের নামে মহিষের মাংস বিক্রি করা হচ্ছিল বেশি মুনাফা লুটতে। ক্রেতা পরিচয়ে প্রথমে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা বিষয়টি স্বীকার করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, ধর্মঘটের কারণে গত এক সপ্তাহ মাংসের বাজার বন্ধ থাকায় বাজারে চাহিদা বেশি। কিন্তু সে তুলনায় গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তাই ‘বাধ্য হয়ে’ দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে তিনি জানান, এই দাম বৃদ্ধি সাময়িক।  

গতকাল কারওয়ান বাজার ছাড়াও শান্তিনগর, মালিবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরাপুল, খিলগাঁও ও শাহজাহানপুর ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকান এখনো খোলেননি বিক্রেতারা। শান্তিনগর বাজারে ১৫টির বেশি দোকানের মধ্যে ছয়-সাতটি খোলা হয়েছে সকাল ১০টার দিকে।

অল্প সময়ের মধ্যেই বেশির ভাগ দোকানের মাংস বিক্রিও শেষ হয়ে যায়। মালিবাগ ও শান্তিবাগ এলাকায় কোনো দোকান খোলা পাওয়া যায়নি। তবে যেসব এলাকায় দোকান খোলা ছিল সেখানে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস খুব কম দোকানে বিক্রি হলেও দাম ছিল কেজিপ্রতি ৭০০-৭৫০ টাকা।

রাজধানীর সুপারশপগুলোতে ধর্মঘট না থাকলেও শান্তিনগরে আগোরায় সকাল ১১টার দিকে কোনো গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়নি। তবে মালিবাগে স্বপ্নর আউটলেটে দেখা গেছে গরুর মাংস বিক্রি বেশ জমজমাট। প্রতি কেজি মাংস বিক্রি করা হয়েছে ৪৯০ টাকায়। ওই দোকানে মাংস কিনতে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুশফিকুর রহমান মুকুল বলেন, ‘মেসের বন্ধুরা সপ্তাহে দুই দিন রুটি-মাংস খেলেও ধর্মঘটের কারণে গত এক সপ্তাহে তা পারিনি। আজ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও গরুর মাংস কিনতে হলো ৪৯০ টাকা দরে। অথচ ধর্মঘটের আগে দাম ছিল ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকা। ’

শান্তিবাগ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মতিন মাংস বিতানের মো. আব্দুল মতিন দোকান খুলে বসে থাকলেও মাংস নেই। তিনি জানান, গাবতলী বাজারে গরুর দাম বেশি হওয়ায় গরু না কিনেই ফিরতে হয়েছে তাঁকে। শাহজাহানপুরের খলিল গোশত বিতানে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। ওই দোকানের সামনে ক্রেতা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘১২ বছর ধরে এখান থেকে মাংস কিনি। এর আগে ৪৫০ টাকায় মাংস কিনলেও আজ ৪৮০ টাকায় কিনতে হয়েছে। ’

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের আশ্বাসে মাংস ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট স্থগিত করলেও গাবতলী বাজারের ইজারাদার লুত্ফর রহমানকে কোনো নোটিশ না দেওয়ায় রাজধানীর মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। গতকাল গাবতলী বাজারে গরুপ্রতি ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা নেওয়া হয়েছে অবৈধভাবে। ফলে ৪৭০ থেকে ৫৩০ টাকা পর্যন্ত মাংস বিক্রি হয়েছে বাজারে। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ইজারাদারদের যোগসাজশে এ কাজ করছেন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মহাসচিব গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মাংস ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট করলেও ধর্মঘটের ফলে উল্টো দাম বেড়েছে। তাঁর পরামর্শ, এ জন্য সরকারের উচিত চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া, একই সঙ্গে পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণে এনে বাজারে গবাদি পশুর সরবরাহ বৃদ্ধি করা। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহের জন্য দেশীয় খামারিদের উত্পাদন বাড়ানোর জন্য নগদ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। তিনি ভোক্তাদের বেশি দামে মাংস না কিনতে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটা করা গেলে ব্যবসায়ীরা নায্য দামে মাংস বিক্রি করতে বাধ্য হবেন।

পশুর হাটের অতিরিক্ত ইজারা কমানো, চাঁদাবাজি বন্ধ ও অবৈধ পথে পশু আমদানি বন্ধ করে বৈধভাবে আনার সুযোগ দেওয়া এবং চামড়ার দাম নির্ধারণের দাবিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মঘট পালন করে আসছিল বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতি। ছয় দিন পর সোমবার সকালে সমিতির প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নিজেদের দাবিনামা জমা দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেন।


মন্তব্য