kalerkantho


কুমিল্লা নামে বিভাগ হচ্ছে না মোশতাক রশীদ ও তাহের ঠাকুরের কারণে!

মোশতাকের বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লা নামে বিভাগ হচ্ছে না মোশতাক রশীদ ও তাহের ঠাকুরের কারণে!

বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্তকারীদের অন্যতম খন্দকার মোশতাকের কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়া গ্রামের বাড়ি উচ্ছেদ এবং তাঁর কবর অপসারণের দাবিতে গতকাল রবিবার বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।

কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতারা কর্নেল রশীদ ও তাহের উদ্দীন ঠাকুরের বাড়িও কুমিল্লা থেকে উচ্ছেদের দাবি করেন। এ সময় তাঁরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই তিন খুনির কারণে ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ হচ্ছে না। তাই এই তিন খুনির অপকর্মের দায় কুমিল্লার সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। তাঁরা বাড়িটি অপসারণে প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেন।

দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শহীদনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গতকাল সকাল ১০টার দিকে জড়ো হতে থাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে তারা খন্দকার মোশতাকের বাড়ি দশপাড়া গ্রামের দিকে রওনা দেয়। খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে আসা দাঙ্গা পুলিশ তাদের ষোলপাড়া গ্রামে বাধা দেয়। কিন্তু এরই মধ্যে ষোলপাড়া গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে দশপাড়া গ্রামের খন্দকার মোশতাকের বাড়িতে ঢুকে পড়ে কিছু নেতাকর্মী। তারা বাড়িটি ভাঙচুরের চেষ্টা করে।

পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্য ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা বাড়ির সামনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট করে।

অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘কুমিল্লা’ নাম বাদ দিয়ে ‘ময়নামতী’ নামটি বিভাগ হিসেবে ঘোষণার একমাত্র কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘কুমিল্লা’ নামটি পছন্দ করেন না। তাঁর কারণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দীন ঠাকুর ও কর্নেল রশিদের বাড়ি বৃহত্তর কুমিল্লায়। এই তিন খুনির বাড়ি কুমিল্লা থেকে উচ্ছেদ এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জোর দাবি জানান বক্তারা। এই তিন খুনির অপকর্মের দায় দাউদকান্দিসহ কুমিল্লার সাধারণ মানুষ নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, ‘কুমিল্লার কুলাঙ্গার খুনি মোশতাকের কারণে আমরা কুমিল্লার নামে বিভাগ পাচ্ছি না। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল হোতা খুনি মোশতাকের দাউদকান্দিতে সব ধরনের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসন যদি তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত না করে, তাহলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা এসে বাড়িটি অপসারণ করাতে প্রশাসনকে বাধ্য করবে। ’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মেঘনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, দাউদকান্দি পৌরসভার মেয়র নাঈম ইউসূফ হোসাইন, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব চৌধুরী লিল মিয়া, সহসভাপতি সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জেবুন্নেছা জেবু, শ্রমিক লীগ সভাপতি রকিব উদ্দীন রকিব, যুবলীগ নেতা হেলাল, ছাত্রলীগ সভাপতি নয়নসহ দাউদকান্দি ও মেঘনার আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।


মন্তব্য