kalerkantho


অপহৃত মা ও মেয়ে এক মাস পর জুরাইনে উদ্ধার

চারজন গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অপহৃত মা ও মেয়ে এক মাস পর জুরাইনে উদ্ধার

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অপহরণের এক মাস পর রাজধানীর নতুন জুরাইন এলাকা থেকে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

উদ্ধার করা দুজন হলো রোকসানা বেগম (২৫) ও তাঁর মেয়ে তাজিনুর (১)। গত ১৬ জানুয়ারি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ এলাকা থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়।

অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা চারজন হলো মিজান, আনিসুর, সাজেদা ও আশরাফুল।

এ ঘটনায় করা মামলার বাদী ফাতেমা বেগম জানান, গত ১৫ জানুয়ারি তাঁর মেয়ে নাতনিকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি রাজধানীর বনশ্রী থেকে তাঁদের দক্ষিণ

কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার বাসায় বেড়াতে আসে। পরদিন নাতনি তাজিনুর অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়ে রোকসানা ইকুরিয়া এলাকায় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে মা ও মেয়ে অপহরণের শিকার হয়।

ফাতেমা বলেন, দুই দিন পর তাঁর মোবাইল ফোনে ফোন করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি জানায়, রোকসানা ও তাজিনুর তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাদের জীবিত ফেরত চাইলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।

এরপর গত ২৮ জানুয়ারি তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন নম্বর ট্র্যাক করে মিজান ও আনিসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের রিমান্ডে এনে ঘটনার বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা শুধু ফোন করে মুক্তিপণ চেয়েছে, অপহরণ করা মা ও মেয়ে তাদের কাছে নেই। তারা কোথায় থাকতে পারে এমন কয়েকটি জায়গার নামও জানায় ওই দুজন। এরপর গত শনিবার থানায় একটি অপহরণ মামলা গ্রহণ করা হয়।

এসআই শরিফুল জানান, রিমান্ডে পাওয়া দুজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গতকাল রবিবার রাজধানীর নতুন জুরাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে সাজেদা ও আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জিম্মায় থাকা রোকসানা ও তাঁর মেয়ে তাজিনুরকে উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অপহরণ মামলা দায়ের করার পরপরই আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করি। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের আটক করে অপহৃতদের উদ্ধার করি। ’


মন্তব্য