kalerkantho

লেখকের সেরা বই

নয়মাস

ইমদাদুল হক মিলন

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নয়মাস

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার টেনামেন্ট হাউসে আমি থাকি। পাশের ফ্ল্যাটে থাকে একটা পাকিস্তানি পরিবার।

অন্য বিল্ডিং গুলোতে থাকে এ রকম আরো পাঁচটি পরিবার। ঢাকার আশপাশের টেক্সটাইল মিলগুলোর ইঞ্জিনিয়ার কেউ কেউ, কোনো কোনো পাকিস্তানি ব্যবসা-বাণিজ্যও করে। বাচ্চাকাচ্চাগুলো এখানকার স্কুলে পড়ে। অন্য সময় টেনামেন্টের খোলা চত্বরে হৈচৈ, খেলাধুলোয় ব্যস্ত থাকে। এদের কেউ কেউ জেনে গেল আমি একজন লেখক, সম্পাদক। বাচ্চাদের জন্য লেখা আমার দুটি বই ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে। ওই বইয়ের লোভে বাচ্চাগুলো প্রায়ই আমার ফ্ল্যাটে

আসে। একটি কিশোরী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চায় বাংলাদেশ সম্পর্কে। তখনই ‘নয়মাস’ লেখার আইডিয়া মাথায় আসে।

পাকিস্তানের এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কি জানে ১৯৭১ সালে কি নৃশংসতা ঘটিয়েছিল তার জাতি? ‘প্রথম আলো’র ঈদ সংখ্যার জন্য লেখাটি লিখলাম।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে খুবই স্নেহের চোখে দেখেন। যেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় একটি-দুটি কথা তিনি আমার সঙ্গে বলেন। মুখে সব সময় স্নিগ্ধ মায়াবী হাসি। কোনো অনুষ্ঠানে তাঁর কাছাকাছি না পৌঁছাতে পারলেও, দূর থেকে তিনি তাঁর স্নেহের হাতখানি আমার উদ্দেশে তোলেন। আমার মতো সামান্য লেখকের লেখালেখির খোঁজখবর নেন।

এক অনুষ্ঠানে তিনি কিছুক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বললেন। জানতে চাইলেন কী লিখছি এখন? ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলো নিয়ে কথা বললাম। এই প্রজন্মের পাকিস্তানি এক কিশোরী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনে তার নিজের দেশ পাকিস্তানকে তীব্র ঘৃণা করতে শুরু করে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে একাত্তরে তার জাতি যে নৃশংসতা ঘটিয়েছে সে জন্য চোখের জলে ভাসতে ভাসতে ক্ষমা চায়। আমি লেখাটির নাম দিয়েছিলাম ‘পাকিস্তানি’।

নাম শুনে আপা কথা বললেন না। আমি তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, নামটি তাঁর পছন্দ হয়নি। তাঁর সম্মানে নামটি আমি বদলে দিলাম। বইয়ের নাম হলো ‘নয়মাস’।

প্রিয় পাঠক, বইটি আপনারা পড়লে আমার শ্রম সার্থক হবে। ‘নয়মাস’ বের করেছে অনন্যা, প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ, মূল্য ১৭৫ টাকা।


মন্তব্য