kalerkantho


নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রীর সফরে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর সফরে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই। গত শুক্রবার ভারতের দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত সফর চলতি বছরের এপ্রিলে হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলোচনায় না বসার কারণে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ছাড়াই এ সফর হচ্ছে।

‘প্রতিবেশীই প্রথম’—এই নীতির অংশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফর করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার ৪১ বছরের পুরনো সীমান্ত বাস্তবায়ন করেন। একইভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত সফরের সময় ঐতিহাসিক তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। কিন্তু তিস্তা চুক্তিটি আটকে আছে রাজ্য সরকার পর্যায়ে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর এপ্রিলে হতে পারে। আর তিস্তা চুক্তি ছাড়াই সফরটি সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশে মোদির সফরের সময় ঢাকায় এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মমতা তখন ‘তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টনে নিরপেক্ষ সমাধান’ হবে বলে আস্থা ব্যক্ত করেছিলেন।

তবে এ সবই এখন অতীত। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার উভয় পক্ষই এখন পরস্পরের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আলোচনার টেবিলে আনা কঠিন। ’

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফর করবেন। সফরে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের বিস্তারিত বিষয়গুলো ঠিক করবেন এবং পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্য ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার সফরকালে ভারতের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারসহ ১২টিরও বেশি চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি এক কূটনীতিক বলেন, ভারত ৪১টি চুক্তির একটি বিশাল তালিকা পাঠিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র—এর প্রমাণ দিয়েছেন। বাংলাদেশে অবস্থান করা ভারতীয় চরমপন্থীদের দমন করে তিনি এ প্রমাণ দিয়েছেন। এ ছাড়া দুটি দেশ এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গোয়েন্দা তথ্যও বিনিময় করছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে ভারত সফরে যাওয়ার কথা ছিল শেখ হাসিনার। এ জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব দিল্লিও গিয়েছিলেন। বিভিন্ন কারণে সফরটি পেছানোর অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।


মন্তব্য