kalerkantho


প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে

আনিসুল হক

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে

আমার মেয়ে পদ্য পড়ে বোস্টনে, ওয়েলেসলি কলেজে। হিলারি ক্লিনটন এই কলেজে পড়তেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হতে না পারায় আরো অনেকের মতো পদ্যরও মন খারাপ। পদ্য পড়বে ক্রিয়েটিভ রাইটিং, হতে চায় লেখক। এবার শীতের ছুটিতে ও এসেছিল। ও যখন উইন্টার ভ্যাকেশনে আসে, আমার তখন লিখবার মৌসুম। সামনে বইমেলা। লিখতে তো হবেই। এবারও তা-ই হলো। পদ্য আমেরিকা যাওয়ার জন্য ব্যাগ গোছাচ্ছে আর আমি নিজের পড়ার ঘরে বসে কম্পিউটারে উপন্যাস লিখছি। নাম ‘প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে’।

বিষয় হলো, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো চারজন মানুষ যাবে মঙ্গল গ্রহে। একমুখী যাত্রা। যাওয়া যাবে, ফেরা যাবে  না। অক্সিজেন নেই, পানিও রেডি নেই, ওখানে গিয়ে নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। এ রকমই একটা উদ্যোগ নিয়েছে একটা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান। এবং সেই অভিযাত্রীদের প্রাথমিক দলে ঢাকার একটা মেয়েও আছে। প্রথম আলোতে সেই নারীর সাক্ষাত্কারও ছাপা হয়েছে।

আমি ভাবি, আমার মেয়ে আমেরিকা যায়, তাতেই আমার মন কেমন করে। আর আমাদের একটা মেয়ে ওয়ানওয়ে জার্নিতে মঙ্গল গ্রহে যাবে! মনটা কেমন যেন করে। আমার এই উপন্যাসটা আসলে সেই মন কেমন করা গল্পটা নিয়েই রচিত। কী করে ঢাকার একটা মেয়ে নাসায় যেতে পারে, নভোযাত্রী হতে পারে, নভোযাত্রীরা কী খায়, কী প্রশিক্ষণ নেয়, মঙ্গলে যেতে হবে কী করে, নারী-পুরুষ একসঙ্গে গেলে কী হতে পারে—এই সব আর কি! এটা কি সায়েন্স ফিকশন? ‘হ্যাঁ’, আবার ‘না’। কারণ মানুষ এখনো মঙ্গলে যায়নি। কিন্তু আমার গল্পে ওরা মঙ্গলে যাচ্ছে। আবার যা লিখেছি, অনুমান করি, সেই রকমই তো কিছু ২০২৬-এ না হোক, ২০৩৬ সালে ঘটবে। এখন ধরা যাক, ট্রেনে চড়ে কেউ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এলো, সে একটা যান্ত্রিক যানেই এলো, এই বর্ণনা কি সায়েন্স ফিকশন? তাহলে রকেটে চড়ে মঙ্গলে গেলে সেটা সায়েন্স ফিকশন নাকি ফিকশন আমি জানি না। আমার উদ্দেশ্য দুটি : এক. লিটারারি ফিকশন লেখা। দুই. বাবার চোখে বা স্বজনের চোখে একটা মেয়ের চলে যাওয়ার বেদনাটা ব্যক্ত করা। ঢাকার একটা মেয়ে মঙ্গলে যাচ্ছে, সঙ্গে নিয়েছে বাংলাদেশের পতাকা, তার খেতে ইচ্ছা করছে চটপটি, আর ঢাকায় তার বৃদ্ধ মা-বাবা তাকিয়ে আছেন আকাশে—কোন তারাটা মঙ্গল, বলো দেখি।

বইটি বের করেছে প্রথমা। প্রচ্ছদ করেছেন মাসুক হেলাল। মূল্য ..... টাকা। ভালো হয়েছে না মন্দ হয়েছে জানি না। আপনারা পড়ে বলবেন।


মন্তব্য