kalerkantho


প্রভাবশালী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

স্বীকৃতি সিলেটের ডা. শাফির

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



স্বীকৃতি সিলেটের ডা. শাফির

গুগল গ্লাস ব্যবহার করে উইচ্যাটের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার সরাসরি সম্প্রচার করে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শল্যবিদ ডা. শাফি আহমেদ। ব্রিটেনের বিখ্যাত রয়াল লন্ডন হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের দৃশ্য ভার্চুয়াল রিয়ালিটি তৈরি করায় অপারেশন থিয়েটারের ৩৬০ ডিগ্রি দেখা যাচ্ছিল তাতে।

গত বছরের ১৪ এপ্রিল বা পহেলা বৈশাখে বিশ্বের ১৩০টি দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেখেছিল সেই সম্প্রচার।

ওই ঘটনার এক বছরের মধ্যেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ-বাংলাদেশির স্বীকৃতি পেলেন ডা. শাফি আহমেদ। ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইন্সপায়ারেশন (বিবিপিআই) ফাউন্ডেশন তাঁকে এ সম্মাননা দেয়। উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এ সম্মাননা পান।

বিবিপিআই ষষ্ঠবারের মতো ব্রিটেনে প্রভাবশালী ও অনুপ্রেরণাদায়ী ১০০ বাঙালির তালিকা প্রকাশ করল। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘দ্য শার্ড’-এর ২৪ তলায় এক অনুষ্ঠানে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ডা. শাফি আহমেদের হাতে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার-২০১৭’ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

চিকিৎসা শাস্ত্রে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রয়োগ নিয়ে কাজ করা ডা. শাফি ব্রিটেনের বার্টস মেডিক্যাল স্কুলের সহকারী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি রয়াল এয়ারফোর্স ও ব্রিটিশ সরকারের চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন।

ডা. শাফি আহমেদের এমন স্বীকৃতিতে সিলেটের বিয়ানীবাজারে তাঁর স্বজনদের মধ্যে খুশির ঝিলিক বইছে। তাঁর চাচা মুক্তিযোদ্ধা ছাদ উদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শাফির এমন স্বীকৃতি আমাদের পরিবারের জন্য গৌরবের। ’ তিনি জানান, শুধু শাফি নন, তাঁর অন্য ভাইবোনরাও নিজেদের ক্ষেত্রে সফল। তাঁরা এখন আর নিয়মিত বাংলাদেশে আসতে পারেন না ব্যস্ততার জন্য। কিন্তু ব্রিটেনে তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রেখে বাংলাদেশের নামকে উজ্জ্বল করছেন।

ডা. শাফি আহমেদের জন্ম সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের মোল্লাপুর গ্রামে। বাবা আলহাজ মিম্বর আলী গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ব্রিটেনে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ব্রিটেনে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। সেখানে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সেন্টারের ট্রাস্টিও ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর অবদান অনেক। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে নিষ্কৃতির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে শেখ মুজিব ডিফেন্স কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি।

মিম্বর আলীর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তৃতীয় ডা. শাফি আহমেদ। পাঁচ-ছয় বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে শাফি ব্রিটেনে পাড়ি জমান বলে জানান তাঁর চাচা ছাদ উদ্দিন আহমদ।

ডা. শাফি আহমেদের বড় ভাই শামীম আহমদ উড়োজাহাজের প্রকৌশলী। বোন স্বপ্না আরা খাতুন লাভলী ব্রিটেনের এশিয়ান কমিউনিটির প্রথম নারী জজ। বর্তমানে তিনি সার্বিট জজ হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট ভাই ব্রিটেনের একটি বার কাউন্সিলে কর্মরত।

ভাতিজা ডা. শাফির সঙ্গে সর্বশেষ ২০০০ সালে দেখা হয়েছিল জানিয়ে ছাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সে বছর ব্রিটেন সফরে গেলে তার কর্মস্থল রয়াল লন্ডন হাসপাতালে দেখা হয়। ’

সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন ডা. শাফি আহমেদ। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একাধিক ক্যান্সার রোগীর অস্ত্রোপচার শেষে তিনি ফিরে যান।


মন্তব্য